১২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

শৃঙ্খলার নতুন নজির ও জনবান্ধব রাজনীতি

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যখন সারা দেশে সাজ সাজ রব, ঠিক তখন তার পক্ষ থেকে আসা নির্দেশনাগুলো দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, তাতে তারেক রহমানের পরিণত ও জনমুখী রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

১. জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা: তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনো কর্মসূচি তিনি সমর্থন করবেন না যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বা দুর্ভোগের কারণ হয়। এ কারণেই তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে অনুরোধ করেছিলেন এবং বাংলাদেশেও বড় কোনো জনসভার বদলে রাজধানীর এক পাশে প্রশস্ত ‘তিনশ ফুট’ মহাসড়কের সার্ভিস লেনের একপাশে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২. কেবল নেতার কণ্ঠস্বর: সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাষ্যমতে, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া অন্য কোনো বক্তা থাকবেন না। এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা প্রমাণ করে যে তিনি সরাসরি জনগণের সাথে কথা বলতে চান এবং দীর্ঘ বক্তব্যের ভারে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যকে ঢাকা পড়তে দিতে চান না। সেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য ও দেশের কল্যাণে দোয়া করবেন।

৩. আবেগ ও কর্তব্যের সমন্বয়: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তার প্রথম অগ্রাধিকার হলো পরিবার। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যাবেন। এরপর তিনি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন।

৪. ছুটির দিনে প্রত্যাবর্তন: দেশবাসীর কথা মাথায় রেখে তিনি এমন একটি সময় বেছে নিয়েছেন যা টানা তিন দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে পড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা প্রদর্শনের চেয়ে সাধারণ মানুষের কর্মদিবস এবং নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তারেক রহমানের এই ফিরে আসা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি একজন দায়িত্বশীল নেতার জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। রাজধানীর কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে এক প্রান্তে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং নিজে ছাড়া অন্য কারো বক্তব্য না রাখার সিদ্ধান্তটি এটাই নির্দেশ করে যে—তিনি এখন বিভাজন বা উৎসব নয়, বরং দেশ পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐক্যকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

জনপ্রিয়

শৃঙ্খলার নতুন নজির ও জনবান্ধব রাজনীতি

প্রকাশিত : ০৫:১৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যখন সারা দেশে সাজ সাজ রব, ঠিক তখন তার পক্ষ থেকে আসা নির্দেশনাগুলো দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, তাতে তারেক রহমানের পরিণত ও জনমুখী রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

১. জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা: তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনো কর্মসূচি তিনি সমর্থন করবেন না যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বা দুর্ভোগের কারণ হয়। এ কারণেই তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে অনুরোধ করেছিলেন এবং বাংলাদেশেও বড় কোনো জনসভার বদলে রাজধানীর এক পাশে প্রশস্ত ‘তিনশ ফুট’ মহাসড়কের সার্ভিস লেনের একপাশে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২. কেবল নেতার কণ্ঠস্বর: সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাষ্যমতে, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া অন্য কোনো বক্তা থাকবেন না। এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা প্রমাণ করে যে তিনি সরাসরি জনগণের সাথে কথা বলতে চান এবং দীর্ঘ বক্তব্যের ভারে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যকে ঢাকা পড়তে দিতে চান না। সেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য ও দেশের কল্যাণে দোয়া করবেন।

৩. আবেগ ও কর্তব্যের সমন্বয়: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তার প্রথম অগ্রাধিকার হলো পরিবার। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যাবেন। এরপর তিনি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন।

৪. ছুটির দিনে প্রত্যাবর্তন: দেশবাসীর কথা মাথায় রেখে তিনি এমন একটি সময় বেছে নিয়েছেন যা টানা তিন দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে পড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা প্রদর্শনের চেয়ে সাধারণ মানুষের কর্মদিবস এবং নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তারেক রহমানের এই ফিরে আসা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি একজন দায়িত্বশীল নেতার জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। রাজধানীর কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে এক প্রান্তে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং নিজে ছাড়া অন্য কারো বক্তব্য না রাখার সিদ্ধান্তটি এটাই নির্দেশ করে যে—তিনি এখন বিভাজন বা উৎসব নয়, বরং দেশ পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐক্যকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।