০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ নেতা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। রুমিন ফারহানা ছাড়াও আরও আটজন নেতাকে একই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

বহিষ্কারের কারণ ও প্রেক্ষাপট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব। তবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ওই আসনের অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও দাখিল করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন অবস্থান গ্রহণকেই শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে বিএনপি।

বহিষ্কৃত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ছাড়াও বহিষ্কৃত হওয়া উল্লেখযোগ্য নেতারা হলেন:

  • জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক।

  • জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে।

  • ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব।

  • সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

সাংগঠনিক কঠোরতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দল যখন শোকাচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়েই নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল বিএনপির হাইকমান্ড। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মূলত জোটের রাজনীতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ নেতা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত

প্রকাশিত : ০৮:১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। রুমিন ফারহানা ছাড়াও আরও আটজন নেতাকে একই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

বহিষ্কারের কারণ ও প্রেক্ষাপট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব। তবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ওই আসনের অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও দাখিল করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন অবস্থান গ্রহণকেই শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে বিএনপি।

বহিষ্কৃত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ছাড়াও বহিষ্কৃত হওয়া উল্লেখযোগ্য নেতারা হলেন:

  • জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক।

  • জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে।

  • ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব।

  • সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

সাংগঠনিক কঠোরতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দল যখন শোকাচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়েই নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল বিএনপির হাইকমান্ড। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মূলত জোটের রাজনীতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।