১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতীক্ষার অবসান ও এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে গত দেড় দশকে তাঁর মতো আলোচিত, বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় বিদ্ধ এবং একইসঙ্গে প্রবলভাবে প্রতীক্ষিত নাম আর দ্বিতীয়টি নেই। আজকের এই দিনটি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার মুহূর্ত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৬ মাসের ‘মব ভায়োলেন্স’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা জনমনে যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে, তা নিরসনে একটি সুসংগঠিত ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন আজ অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যতা কাটাতে তারেক রহমান এখন কেবল বিএনপির নেতা নন, বরং জাতীয় ঐক্যের এক অনিবার্য সেতুবন্ধনে পরিণত হয়েছেন।

তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটি হলো—রাজনীতিতে এক নতুন ও মার্জিত সংস্কৃতির প্রবর্তন। আমরা অতীতে দেখেছি, বড় নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে জনজীবন স্থবির করে দেওয়ার এক সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তারেক রহমান এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জনগণের ভোগান্তি লাঘবে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো রাজধানীর হৃদপিণ্ডকে এড়িয়ে শহরের এক প্রান্তে ‘তিনশ ফুট’ মহাসড়কে সংক্ষিপ্ত আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি টানা তিন দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ফেরার সিদ্ধান্তটি তাঁর নাগরিক সংবেদনশীলতারই পরিচয় দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না। এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রথা—যেখানে অপ্রাসঙ্গিক বক্তার ভিড়ে মূল নেতার বার্তা হারিয়ে যায়—তা থেকে এক সাহসী বিচ্যুতি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি অসুস্থ মায়ের কাছে যাওয়া এবং পিতা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারতের যে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা তিনি প্রকাশ করেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক সত্তার ভেতরে থাকা মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকেই সামনে আনে।

দেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এই ক্রান্তিকালে তারেক রহমানের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হিমালয়সম। তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি আধুনিক ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের এখনই সময়।

আমরা আশা করি, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। হিথ্রো থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া কেবল একজন ব্যক্তির সফর নয়, বরং এটি ১৬ কোটি মানুষের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রার এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকুক।

স্বাগত হে জননেতা, আগামীর বাংলাদেশ আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বের অপেক্ষায়।

জনপ্রিয়

প্রতীক্ষার অবসান ও এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা

প্রকাশিত : ০৫:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে গত দেড় দশকে তাঁর মতো আলোচিত, বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় বিদ্ধ এবং একইসঙ্গে প্রবলভাবে প্রতীক্ষিত নাম আর দ্বিতীয়টি নেই। আজকের এই দিনটি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার মুহূর্ত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৬ মাসের ‘মব ভায়োলেন্স’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা জনমনে যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে, তা নিরসনে একটি সুসংগঠিত ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন আজ অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যতা কাটাতে তারেক রহমান এখন কেবল বিএনপির নেতা নন, বরং জাতীয় ঐক্যের এক অনিবার্য সেতুবন্ধনে পরিণত হয়েছেন।

তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটি হলো—রাজনীতিতে এক নতুন ও মার্জিত সংস্কৃতির প্রবর্তন। আমরা অতীতে দেখেছি, বড় নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে জনজীবন স্থবির করে দেওয়ার এক সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তারেক রহমান এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জনগণের ভোগান্তি লাঘবে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো রাজধানীর হৃদপিণ্ডকে এড়িয়ে শহরের এক প্রান্তে ‘তিনশ ফুট’ মহাসড়কে সংক্ষিপ্ত আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি টানা তিন দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ফেরার সিদ্ধান্তটি তাঁর নাগরিক সংবেদনশীলতারই পরিচয় দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না। এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রথা—যেখানে অপ্রাসঙ্গিক বক্তার ভিড়ে মূল নেতার বার্তা হারিয়ে যায়—তা থেকে এক সাহসী বিচ্যুতি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি অসুস্থ মায়ের কাছে যাওয়া এবং পিতা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারতের যে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা তিনি প্রকাশ করেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক সত্তার ভেতরে থাকা মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকেই সামনে আনে।

দেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এই ক্রান্তিকালে তারেক রহমানের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হিমালয়সম। তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি আধুনিক ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের এখনই সময়।

আমরা আশা করি, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। হিথ্রো থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া কেবল একজন ব্যক্তির সফর নয়, বরং এটি ১৬ কোটি মানুষের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রার এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকুক।

স্বাগত হে জননেতা, আগামীর বাংলাদেশ আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বের অপেক্ষায়।