২০২৬ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিয়ে মিশ্র সংবাদ দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত হলেও মাধ্যমিকের বড় একটি অংশ বইয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পেলেও মাধ্যমিকের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বই উৎসব পূর্ণতা পাচ্ছে না। মুদ্রণ কাজ বাকি থাকায় মাধ্যমিক স্তরের শতভাগ বই পেতে শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
১. প্রাথমিক স্তরে শতভাগ প্রস্তুতি
এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬১টি বইয়ের মুদ্রণ ও সরবরাহ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে ১ জানুয়ারি প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি, ইবতেদায়ি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি ভাষা এবং ব্রেইল পদ্ধতির সব শিক্ষার্থী শতভাগ বই হাতে পাবে।
২. মাধ্যমিকে মুদ্রণ ও সরবরাহের বর্তমান চিত্র
মাধ্যমিক স্তরের মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩টি বইয়ের মধ্যে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মুদ্রণ হয়েছে ৭৮.৭২% এবং সরবরাহ হয়েছে ৫৮.৬৮%। স্তরভিত্তিক প্রাপ্তির হার নিম্নরূপ:
-
ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি: প্রায় ১০০% বই ১ জানুয়ারি পাওয়া যাবে।
-
সপ্তম শ্রেণি: ১ জানুয়ারি বই পাবে ৭০% শিক্ষার্থী।
-
অষ্টম শ্রেণি: ১ জানুয়ারি বই পাবে মাত্র ৬০% শিক্ষার্থী।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, নিবিড় যাচাই-বাছাই ও পুনঃদরপত্রের কারণে মাধ্যমিকের বই তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
৩. অনলাইনে ৬৪৭টি পাঠ্যবই অবমুক্ত
শিক্ষার্থীদের পড়ার সুবিধার্থে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সব স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ (পিডিএফ) উন্মুক্ত করা হয়েছে। রোববার এনসিটিবি কার্যালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রাক-প্রাথমিক থেকে কারিগরি পর্যন্ত মোট ৬৪৭টি বইয়ের পিডিএফ পাওয়া যাচ্ছে।
৪. ১ জানুয়ারি বই উৎসব
মাধ্যমিকে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ১ জানুয়ারি সারাদেশে বর্ণাঢ্য ‘বই বিতরণ উৎসব’ পালিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণের পাশাপাশি মা ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
একনজরে পরিসংখ্যান (২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত):
| শ্রেণি | মুদ্রণ সম্পন্ন (%) | সরবরাহ সম্পন্ন (%) |
| ষষ্ঠ শ্রেণি | ৮৭.০১% | ৬৯.৮৪% |
| সপ্তম শ্রেণি | ৬৬.২৪% | ৩৭.২৫% |
| অষ্টম শ্রেণি | ৫৪.০৩% | ২১.৫৭% |
| নবম শ্রেণি | ৮৮.৬২% | ৭২.৪১% |
| ইবতেদায়ি | ৯৫.৬০% | ৯৪.২৪% |
শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বইগুলোকে নির্ভুল করতে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে গিয়ে মুদ্রণে অতিরিক্ত সময় লেগেছে। মান রক্ষার্থে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি নিম্নমানের বই বাতিলও করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









