১২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা: রাষ্ট্রীয় শোক ও সম্মানের রূপরেখা

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের একজন প্রাক্তন সরকারপ্রধান এবং মহিমান্বিত নেত্রীর প্রতি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেছে।

ঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার শুরুতেই মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

  • রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি: আগামীকাল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এই সময়ে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

  • ধর্মীয় প্রার্থনা: আগামীকাল দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

  • শোক বই: বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

  • জানাজা ও দাফনে সহায়তা: জানাজা ও দাফন সম্পর্কিত সকল বিষয়ে সরকার পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রদান করবে। জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে।


প্রধান উপদেষ্টার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁর শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

“সর্বশেষ ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করেছেন। আমার ও আমার স্ত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সবার সুস্থতা নিয়ে তাঁর এই উদ্বেগ ছিল অনুকরণীয়।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতির এই পুনর্গঠনের সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন অভিজ্ঞ ও আপসহীন নেত্রীর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কৃতজ্ঞতা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার যে আন্তরিক সহযোগিতা করেছে, তা দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অনস্বীকার্য। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন যে, বেগম জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশেই দাফন করা হবে।


বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো জাতি আজ ঐক্যবদ্ধভাবে শোক পালন করছে। তাঁর জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর এই সমন্বয় দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

জনপ্রিয়

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা: রাষ্ট্রীয় শোক ও সম্মানের রূপরেখা

প্রকাশিত : ০১:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের একজন প্রাক্তন সরকারপ্রধান এবং মহিমান্বিত নেত্রীর প্রতি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেছে।

ঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার শুরুতেই মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

  • রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি: আগামীকাল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এই সময়ে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

  • ধর্মীয় প্রার্থনা: আগামীকাল দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

  • শোক বই: বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

  • জানাজা ও দাফনে সহায়তা: জানাজা ও দাফন সম্পর্কিত সকল বিষয়ে সরকার পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রদান করবে। জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে।


প্রধান উপদেষ্টার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁর শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

“সর্বশেষ ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করেছেন। আমার ও আমার স্ত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সবার সুস্থতা নিয়ে তাঁর এই উদ্বেগ ছিল অনুকরণীয়।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতির এই পুনর্গঠনের সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন অভিজ্ঞ ও আপসহীন নেত্রীর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কৃতজ্ঞতা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার যে আন্তরিক সহযোগিতা করেছে, তা দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অনস্বীকার্য। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন যে, বেগম জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশেই দাফন করা হবে।


বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো জাতি আজ ঐক্যবদ্ধভাবে শোক পালন করছে। তাঁর জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর এই সমন্বয় দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।