০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

লোকে লোকারণ্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবন এলাকা এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল ১১টার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।

নিচে এই বিষাদময় পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা সংসদ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। ফার্মগেট, বিজয় সরণি, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথ দিয়ে মানুষের ঢল নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংসদ এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে—পশ্চিম গেট, দক্ষিণ প্লাজা, চন্দ্রিমা উদ্যান ও গণভবন সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। সাধারণ মানুষকে আর্চওয়ে পার হয়ে জানাজাস্থলে প্রবেশ করতে হয়, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সকাল ১১টা ১০ মিনিটে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিনটি গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবন থেকে বের করা হয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কঠোর পাহারায় কফিনবাহী গাড়িটি সংসদ ভবনের দিকে যাত্রা শুরু করলে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের গগনবিদারী কান্নায় গুলশান ও সংসদ ভবন এলাকা এক ভারী ও শোকাতুর পরিবেশে রূপ নেয়।

জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর গভীর বেদনা। চাঁদপুর থেকে আসা মোসলেম সরকারের মতো অনেকেই কেবল নেত্রীকে একনজর দেখার তৃপ্তি নিয়ে ফিরেছেন। আবার বাড্ডা থেকে আসা নিগার সুলতানার মতো অনেকেই আক্ষেপ করেছেন এই ভেবে যে, গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রী নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারলেন না। বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং আপামর জনতা দল-মত নির্বিশেষে এই জানাজায় শামিল হয়েছেন।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে কফিন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবনের বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শেরে বাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

দাফন অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এই অন্তিম বিদায় সম্পন্ন হবে। দাফন কার্যক্রম চলাকালীন শেরে বাংলা নগর এলাকায় সাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।


উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রয়াণে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

জনপ্রিয়

লোকে লোকারণ্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

প্রকাশিত : ১২:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবন এলাকা এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল ১১টার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।

নিচে এই বিষাদময় পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা সংসদ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। ফার্মগেট, বিজয় সরণি, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথ দিয়ে মানুষের ঢল নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংসদ এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে—পশ্চিম গেট, দক্ষিণ প্লাজা, চন্দ্রিমা উদ্যান ও গণভবন সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। সাধারণ মানুষকে আর্চওয়ে পার হয়ে জানাজাস্থলে প্রবেশ করতে হয়, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সকাল ১১টা ১০ মিনিটে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিনটি গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবন থেকে বের করা হয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কঠোর পাহারায় কফিনবাহী গাড়িটি সংসদ ভবনের দিকে যাত্রা শুরু করলে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের গগনবিদারী কান্নায় গুলশান ও সংসদ ভবন এলাকা এক ভারী ও শোকাতুর পরিবেশে রূপ নেয়।

জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর গভীর বেদনা। চাঁদপুর থেকে আসা মোসলেম সরকারের মতো অনেকেই কেবল নেত্রীকে একনজর দেখার তৃপ্তি নিয়ে ফিরেছেন। আবার বাড্ডা থেকে আসা নিগার সুলতানার মতো অনেকেই আক্ষেপ করেছেন এই ভেবে যে, গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রী নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারলেন না। বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং আপামর জনতা দল-মত নির্বিশেষে এই জানাজায় শামিল হয়েছেন।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে কফিন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবনের বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শেরে বাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

দাফন অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এই অন্তিম বিদায় সম্পন্ন হবে। দাফন কার্যক্রম চলাকালীন শেরে বাংলা নগর এলাকায় সাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।


উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রয়াণে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।