০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
দ্রুত একক নাম ঘোষণার প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রার্থী চূড়ান্তকরণে ব্যস্ত বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই দুইশ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, দলটি তা প্রায় গুছিয়ে এনেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে বিএনপি প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। আসনভিত্তিক জনপ্রিয়তা, বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা, সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে—এমন মাপকাঠিতে একাধিক মাঠ জরিপের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

তারেক রহমানের নির্বাচনী বার্তা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ

প্রার্থী বাছাইয়ের সর্বশেষ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে এনে নির্বাচনী বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত দুদিনে তিনি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনশ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করেছেন। এর মধ্যে গত রোববার রংপুর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সোমবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছিলেন।

বৈঠকে তারেক রহমান শিগগির একক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন এবং ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলে কোনো বিভক্তি-কোন্দলের সুযোগ নেই এবং এমনটা হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি যাকে প্রার্থী করা হবে, তাকে সংহতি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এলাকায় কোনো শোডাউন বা মিষ্টি বিতরণ না করতেও নির্দেশনা দেন, যাতে নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা কষ্ট না পান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও প্রার্থীদের কাছে ‘বিভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ বার্তা দেন।

মনোনয়ন চূড়ান্তকরণ ও সবুজ সংকেত

সারা দেশে বহু আসনে প্রার্থীদের এরই মধ্যে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান নিজে বা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এ খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। চলতি মাসের মধ্যেই দুইশ আসনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় দলটি। বিভ্রান্তি এড়াতে সরাসরি একক প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজকালের মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে দুই শতাধিক আসনে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে এবং এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে থাকায় প্রচারে পিছিয়ে না পড়তে কয়েক দিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জটিলতা নিরসন ও প্রার্থিতা পরিবর্তনের সুযোগ

আসন্ন নির্বাচনে প্রায় দেড়শ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে তেমন কোনো জটিলতা দেখছে না বিএনপি। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে কমবেশি শখানেক আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে এনে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য তারেক রহমানের নির্দেশনা জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নাম ঘোষণা কিংবা সবুজ সংকেত পাওয়ার পরও দল থেকে প্রার্থীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাছাইকৃত এই তালিকা চূড়ান্ত নয়। সবুজ সংকেত পাওয়া কারও ব্যাপারে কোনো অভিযোগ এলে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয় সামনে এলে কিংবা প্রত্যাশা অনুযায়ী মাঠে ভালো করতে না পারলে নির্বাচনের তপশিলের পর তার প্রার্থিতা বাতিল বা পরিবর্তন হতে পারে। সে কারণে প্রতি আসনে একাধিক প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে দলটি।

বৃহৎ জোট গঠন ও অন্যান্য আসন

বাকি আসনগুলোর মনোনয়ন নিয়েও কাজ করছে বিএনপি। এর মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র এবং ‘নির্বাচনী জোট’ শরিকদের আসনও রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ‘বৃহৎ জোট’ গঠনেও তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি। প্রার্থী বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাবনাময়ী, জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী কে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দ্রুত একক নাম ঘোষণার প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রার্থী চূড়ান্তকরণে ব্যস্ত বিএনপি

প্রকাশিত : ০২:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই দুইশ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, দলটি তা প্রায় গুছিয়ে এনেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে বিএনপি প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। আসনভিত্তিক জনপ্রিয়তা, বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা, সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে—এমন মাপকাঠিতে একাধিক মাঠ জরিপের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

তারেক রহমানের নির্বাচনী বার্তা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ

প্রার্থী বাছাইয়ের সর্বশেষ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে এনে নির্বাচনী বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত দুদিনে তিনি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনশ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করেছেন। এর মধ্যে গত রোববার রংপুর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সোমবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছিলেন।

বৈঠকে তারেক রহমান শিগগির একক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন এবং ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলে কোনো বিভক্তি-কোন্দলের সুযোগ নেই এবং এমনটা হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি যাকে প্রার্থী করা হবে, তাকে সংহতি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এলাকায় কোনো শোডাউন বা মিষ্টি বিতরণ না করতেও নির্দেশনা দেন, যাতে নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা কষ্ট না পান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও প্রার্থীদের কাছে ‘বিভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ বার্তা দেন।

মনোনয়ন চূড়ান্তকরণ ও সবুজ সংকেত

সারা দেশে বহু আসনে প্রার্থীদের এরই মধ্যে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান নিজে বা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এ খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। চলতি মাসের মধ্যেই দুইশ আসনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় দলটি। বিভ্রান্তি এড়াতে সরাসরি একক প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজকালের মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে দুই শতাধিক আসনে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে এবং এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে থাকায় প্রচারে পিছিয়ে না পড়তে কয়েক দিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জটিলতা নিরসন ও প্রার্থিতা পরিবর্তনের সুযোগ

আসন্ন নির্বাচনে প্রায় দেড়শ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে তেমন কোনো জটিলতা দেখছে না বিএনপি। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে কমবেশি শখানেক আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে এনে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য তারেক রহমানের নির্দেশনা জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নাম ঘোষণা কিংবা সবুজ সংকেত পাওয়ার পরও দল থেকে প্রার্থীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাছাইকৃত এই তালিকা চূড়ান্ত নয়। সবুজ সংকেত পাওয়া কারও ব্যাপারে কোনো অভিযোগ এলে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয় সামনে এলে কিংবা প্রত্যাশা অনুযায়ী মাঠে ভালো করতে না পারলে নির্বাচনের তপশিলের পর তার প্রার্থিতা বাতিল বা পরিবর্তন হতে পারে। সে কারণে প্রতি আসনে একাধিক প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে দলটি।

বৃহৎ জোট গঠন ও অন্যান্য আসন

বাকি আসনগুলোর মনোনয়ন নিয়েও কাজ করছে বিএনপি। এর মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র এবং ‘নির্বাচনী জোট’ শরিকদের আসনও রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ‘বৃহৎ জোট’ গঠনেও তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি। প্রার্থী বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাবনাময়ী, জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী কে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।