০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি: কিংস পার্টি বিতর্ক ও অভ্যুত্থানকারী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘাত

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন, সংস্কার ও গণহত্যার বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করলেও এর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’র সমন্বয়কদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের পর বিতর্ক তীব্র হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা ও কিংস পার্টি বিতর্ক

নির্দলীয় সরকার কোনো বিশেষ দলের প্রতি দায়বদ্ধ না থাকার কথা থাকলেও, সরকারপ্রধান ও কয়েকজন উপদেষ্টার বক্তব্য এবং এনসিপির প্রতি বিশেষ সহযোগিতা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমন্বয়কদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা নিয়োগ এবং ড. ইউনূসের আন্দোলনকারীদের ‘নিয়োগকর্তা’ বলায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।সরকারের কতিপয় নীতিনির্ধারকদের সহানুভূতি ও বিশেষ সহযোগিতার কারণে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’র তকমা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ নিলেও, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্য দলগুলো মনে করে, এই তিনটি দল ‘আধাসরকারি দল’-এর সুবিধা ভোগ করছে।

অভ্যুত্থানকারী দলগুলোর পারস্পরিক আক্রমণ

এনসিপি মুখে নতুন রাজনীতির কথা বললেও তাদের কার্যক্রমে পুরোনো ধ্যান-ধারণার প্রকাশ পাওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বাহাসের সময় এনসিপি নেতারা আন্দোলনে তাদের অবদানের কথা এবং অন্যদের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এর বিপরীতে অন্য দলগুলো বিগত ১৭ বছরে তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে। এমনকি অভ্যুত্থানে কোন দলের কতজন হতাহত হয়েছেন, তা নিয়েও তর্ক চলছে। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যকে অস্বীকার করার প্রবণতা—দেশের রাজনীতির পুরোনো ব্যাধি—আবার দেখা দিয়েছে। অভ্যুত্থানকারী দলগুলো এখন ‘সতীর্থ আক্রমণে’ ব্যস্ত। ভোটব্যাংক বাড়াতে দলগুলো পতিত আওয়ামী লীগকেও কাছে টানতে দ্বিধা করছে না। বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য চলছে উৎকট প্রতিযোগিতা।

বিএনপি: সম্ভাবনার কাল এবং স্ববিরোধী অবস্থান

দেশজুড়ে সংগঠন, জনসমর্থন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় আগামী দিনে বিএনপির সরকার গঠনের ধারণাটি প্রায় প্রতিষ্ঠিত। এই সম্ভাবনাই দলটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দল ছাড়াও পার্টির ভেতরে ক্ষতিকর গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যাদের চাঁদাবাজি-দখলবাজির মতো আচরণ দলের বদনাম করছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করা এবং উগ্র ডানপন্থার উত্থানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়, যা সাধারণ উদার গণতান্ত্রিক মানুষের প্রশংসা পেলেও এককালের মিত্র জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোকে বিরক্ত করে। জামায়াতসহ অধুনা সমমনা দলগুলো বিএনপিকে ‘এক দখলদারকে বিদায় করে আরেক দখলদারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না’ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। নিজামী-মীর কাশেম-সাকা চৌধুরীর ‘মিথ্যা মামলায় সাজা’ হয়েছে বলে সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা এ অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে মনে করেন। নগদ লাভের লোভে ডান-বাম না করে নিজেদের নৈতিক অবস্থান ধরে রাখা এবং দল থেকে ‘গুপ্ত জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সমর্থক’ ছেঁটে ফেলা এখন সময়ের দাবি।

জামায়াতে ইসলামী: সুবিধাভোগী ও কৌশলগত পরিবর্তন

জামায়াতকেই বর্তমান সরকারের প্রথম সুবিধাভোগী হিসেবে মনে করেন অনেকে। সচিবালয়, বিচারালয়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক নিয়োগে দলটি এগিয়ে আছে বলে জানা যায়।নিষিদ্ধ থাকার কারণে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পারার ক্ষতি এখন ‘সুদাসলে উপভোগ’ করছে দলটি। তারা বিভিন্ন এলাকার প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করে এটিকে প্রায় অনিবার্য অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পিআর, জুলাই সনদ ও গণভোটের অজুহাতে জামায়াত নির্বাচন বিলম্বিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, কারণ তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আরও সময় চায়। চাহিদামতো সরকারি সহযোগিতা না পেলে সরকারকে ‘বিশেষ দল দ্বারা প্রভাবিত’ বলে সমালোচনা করে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘যদি-কিন্তু-তবে’ সহযোগে দেশ-বিদেশে একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছে। নারীদের প্রতি কট্টর ইমেজ মুছে ফেলতে কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা করাসহ নানা ঘোষণা দিয়েছে। ধর্মীয় উদারতা দেখাতে ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজন করে এবং পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ইসলামী হামদ-নাত গেয়ে সমালোচিত হয়েছে। আজন্ম পুঁজি ভারত বিরোধিতা থেকেও সরে এসে লোকদেখানো বক্তব্য দিলেও ভেতরে ভেতরে ভূরাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে। ক্ষমতার মোহে দলটি অর্বাচীন রাজনীতিকে স্বাগত জানাচ্ছে।

এনসিপি: কিংস পার্টি তকমা নিয়ে বেড়ে ওঠা

জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তিতে সরকারের কাছে এনসিপি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, তবে নিয়োগকর্তা ড. ইউনূসের কাছে তাদের গুরুত্ব ভিন্ন। প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের ‘তিন নম্বর বাচ্চা’ বা ‘শিশু রাজনীতিবিদ’ হিসেবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করলেও পটপরিবর্তনে তাদের বিরাট অবদান রয়েছে। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক বর্তমানে ‘অম্লমধুর’। তবে নির্বাচনী জোটের জন্য দল দুটি তাদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। শুরু থেকেই ‘কিংস পার্টি’ বা ‘জামায়াতের বি-টিম’ তকমা পাওয়ায় এনসিপির নিজস্ব পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাপলা প্রতীক প্রাপ্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে অযৌক্তিকভাবে ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি করে এবং বিচারালয়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে উচ্চবাচ্য না করায় এনসিপির উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপির কোনো কোনো নেতা অতিপ্রগল্ভতায় বিশেষ হতে চেয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে ভিত্তি শক্তিশালী করতে তারা আরও সতর্ক হয়ে পথ চলবেন বলে মনে হয়।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি: কিংস পার্টি বিতর্ক ও অভ্যুত্থানকারী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘাত

প্রকাশিত : ০৩:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন, সংস্কার ও গণহত্যার বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করলেও এর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’র সমন্বয়কদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের পর বিতর্ক তীব্র হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা ও কিংস পার্টি বিতর্ক

নির্দলীয় সরকার কোনো বিশেষ দলের প্রতি দায়বদ্ধ না থাকার কথা থাকলেও, সরকারপ্রধান ও কয়েকজন উপদেষ্টার বক্তব্য এবং এনসিপির প্রতি বিশেষ সহযোগিতা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমন্বয়কদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা নিয়োগ এবং ড. ইউনূসের আন্দোলনকারীদের ‘নিয়োগকর্তা’ বলায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।সরকারের কতিপয় নীতিনির্ধারকদের সহানুভূতি ও বিশেষ সহযোগিতার কারণে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’র তকমা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ নিলেও, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্য দলগুলো মনে করে, এই তিনটি দল ‘আধাসরকারি দল’-এর সুবিধা ভোগ করছে।

অভ্যুত্থানকারী দলগুলোর পারস্পরিক আক্রমণ

এনসিপি মুখে নতুন রাজনীতির কথা বললেও তাদের কার্যক্রমে পুরোনো ধ্যান-ধারণার প্রকাশ পাওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বাহাসের সময় এনসিপি নেতারা আন্দোলনে তাদের অবদানের কথা এবং অন্যদের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এর বিপরীতে অন্য দলগুলো বিগত ১৭ বছরে তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে। এমনকি অভ্যুত্থানে কোন দলের কতজন হতাহত হয়েছেন, তা নিয়েও তর্ক চলছে। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যকে অস্বীকার করার প্রবণতা—দেশের রাজনীতির পুরোনো ব্যাধি—আবার দেখা দিয়েছে। অভ্যুত্থানকারী দলগুলো এখন ‘সতীর্থ আক্রমণে’ ব্যস্ত। ভোটব্যাংক বাড়াতে দলগুলো পতিত আওয়ামী লীগকেও কাছে টানতে দ্বিধা করছে না। বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য চলছে উৎকট প্রতিযোগিতা।

বিএনপি: সম্ভাবনার কাল এবং স্ববিরোধী অবস্থান

দেশজুড়ে সংগঠন, জনসমর্থন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় আগামী দিনে বিএনপির সরকার গঠনের ধারণাটি প্রায় প্রতিষ্ঠিত। এই সম্ভাবনাই দলটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দল ছাড়াও পার্টির ভেতরে ক্ষতিকর গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যাদের চাঁদাবাজি-দখলবাজির মতো আচরণ দলের বদনাম করছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করা এবং উগ্র ডানপন্থার উত্থানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়, যা সাধারণ উদার গণতান্ত্রিক মানুষের প্রশংসা পেলেও এককালের মিত্র জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোকে বিরক্ত করে। জামায়াতসহ অধুনা সমমনা দলগুলো বিএনপিকে ‘এক দখলদারকে বিদায় করে আরেক দখলদারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না’ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। নিজামী-মীর কাশেম-সাকা চৌধুরীর ‘মিথ্যা মামলায় সাজা’ হয়েছে বলে সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা এ অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে মনে করেন। নগদ লাভের লোভে ডান-বাম না করে নিজেদের নৈতিক অবস্থান ধরে রাখা এবং দল থেকে ‘গুপ্ত জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সমর্থক’ ছেঁটে ফেলা এখন সময়ের দাবি।

জামায়াতে ইসলামী: সুবিধাভোগী ও কৌশলগত পরিবর্তন

জামায়াতকেই বর্তমান সরকারের প্রথম সুবিধাভোগী হিসেবে মনে করেন অনেকে। সচিবালয়, বিচারালয়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক নিয়োগে দলটি এগিয়ে আছে বলে জানা যায়।নিষিদ্ধ থাকার কারণে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পারার ক্ষতি এখন ‘সুদাসলে উপভোগ’ করছে দলটি। তারা বিভিন্ন এলাকার প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করে এটিকে প্রায় অনিবার্য অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পিআর, জুলাই সনদ ও গণভোটের অজুহাতে জামায়াত নির্বাচন বিলম্বিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, কারণ তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আরও সময় চায়। চাহিদামতো সরকারি সহযোগিতা না পেলে সরকারকে ‘বিশেষ দল দ্বারা প্রভাবিত’ বলে সমালোচনা করে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘যদি-কিন্তু-তবে’ সহযোগে দেশ-বিদেশে একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছে। নারীদের প্রতি কট্টর ইমেজ মুছে ফেলতে কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা করাসহ নানা ঘোষণা দিয়েছে। ধর্মীয় উদারতা দেখাতে ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজন করে এবং পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ইসলামী হামদ-নাত গেয়ে সমালোচিত হয়েছে। আজন্ম পুঁজি ভারত বিরোধিতা থেকেও সরে এসে লোকদেখানো বক্তব্য দিলেও ভেতরে ভেতরে ভূরাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে। ক্ষমতার মোহে দলটি অর্বাচীন রাজনীতিকে স্বাগত জানাচ্ছে।

এনসিপি: কিংস পার্টি তকমা নিয়ে বেড়ে ওঠা

জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তিতে সরকারের কাছে এনসিপি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, তবে নিয়োগকর্তা ড. ইউনূসের কাছে তাদের গুরুত্ব ভিন্ন। প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের ‘তিন নম্বর বাচ্চা’ বা ‘শিশু রাজনীতিবিদ’ হিসেবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করলেও পটপরিবর্তনে তাদের বিরাট অবদান রয়েছে। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক বর্তমানে ‘অম্লমধুর’। তবে নির্বাচনী জোটের জন্য দল দুটি তাদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। শুরু থেকেই ‘কিংস পার্টি’ বা ‘জামায়াতের বি-টিম’ তকমা পাওয়ায় এনসিপির নিজস্ব পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাপলা প্রতীক প্রাপ্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে অযৌক্তিকভাবে ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি করে এবং বিচারালয়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে উচ্চবাচ্য না করায় এনসিপির উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপির কোনো কোনো নেতা অতিপ্রগল্ভতায় বিশেষ হতে চেয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে ভিত্তি শক্তিশালী করতে তারা আরও সতর্ক হয়ে পথ চলবেন বলে মনে হয়।