য়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল এবং কয়েকজন উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, সরকারের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বা ‘ছাত্র উপদেষ্টা’ হিসেবে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের পদত্যাগ এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
পদত্যাগ ও নির্বাচনের সময়সূচি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে এবং ভোটগ্রহণ হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। এই প্রেক্ষাপটে, দুই ছাত্র উপদেষ্টাই পদত্যাগের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রমতে, তারা আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আসিফ মাহমুদ (স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা) ১৪ আগস্ট জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন।মাহফুজ আলম (তথ্য উপদেষ্টা) ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে বলেন, মে মাস থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে তিনি “দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তায়” আছেন যে কখন পদত্যাগ করবেন।
রাজনৈতিক আপত্তি ও ‘দল ঘনিষ্ঠতা’র অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকারের ২৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে বর্তমানে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি রয়েছেন (আগে ছিলেন তিনজন)। সম্প্রতি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল কয়েকজন উপদেষ্টার বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে।বিএনপি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ‘দল ঘনিষ্ঠ’ ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে, যদিও প্রকাশ্যে নাম না নিলেও ইঙ্গিত দুই ছাত্র উপদেষ্টার দিকেই বলে মনে করা হচ্ছে।দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘ঘনিষ্ঠ’ আখ্যা দিয়ে তাদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে।জামায়াতে ইসলামীও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে।সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে দুই ছাত্র প্রতিনিধিকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সরে যাওয়ার যুক্তি
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জোর দিয়েছেন যে, উপদেষ্টা বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা কারও রাজনীতি কিংবা নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকলে নির্বাচনে নিরপেক্ষতার স্বার্থে তাদের সবার পদত্যাগ করা উচিত।”যেহেতু প্রধান উপদেষ্টা বারবারই বলছেন যে, আমরা ইতিহাসের একটা শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে চাই… তাই সবারই তপশিলের আগে পদত্যাগ করা উচিত—একটা স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু, কোনো প্রকার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন আয়োজনের জন্য।”তিনি জানান, তিনি ২০১৮ সাল থেকে রাজনীতিতে যুক্ত এবং নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে যাবেন।
ভোটের মাঠে দুই উপদেষ্টার সম্ভাব্য অবস্থান
দুই ছাত্র উপদেষ্টাই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক। তাদের সম্ভাব্য আসন ও দলীয় অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান) বা ঢাকার অন্য কোনো আসন।স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে এনসিপি তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে এবং ওই আসনে প্রার্থী দেবে না।মাহফুজ আলমলক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন।জোটগত/এনসিপির প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানা গেছে। মাহফুজ আলমের ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন যে, পদত্যাগ করলে মাহফুজ আলমের রামগঞ্জ থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপিতে যোগদানের জল্পনা
শুরুর দিকে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকা মো. নাহিদ ইসলাম ২৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করে এনসিপি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর, বর্তমানে দুই ছাত্র উপদেষ্টার এনসিপি-তে যোগদান নিয়েও গুঞ্জন চলছে।আসিফ মাহমুদ অবশ্য উল্লেখ করেছেন, পদত্যাগের পর তিনি এনসিপিতে যোগ দেবেন—এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়।এনসিপির নেতারা বলছেন, দুই উপদেষ্টা যদি পদত্যাগের পর দলে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে এনসিপি তাদের স্বাগত জানাবে এবং নির্বাচনের পরে তারা সরাসরি দলে যোগ দিতে পারেন।এনসিপি নভেম্বরের মধ্যে যে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করবে, তাতে আসিফ ও মাহফুজ আলমের নাম থাকবে না।
অন্যদিকে, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন মনে করেন, দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করলেও অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র উপদেষ্টা থাকা উচিত, অন্যথায় গণঅভ্যুত্থানের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে।
এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে আপনি যদি কুমিল্লা-৩ আসন থেকে আসিফ মাহমুদের নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কারণ বা বিএনপির সাথে মাহফুজ আলমের আলোচনার বিষয়ে আরও কোনো তথ্য জানতে চান, তাহলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









