১২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ ও গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ

ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ হস্তান্তর করেছে। এই সুপারিশে সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে গণভোটের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই সুপারিশ জমা দেন।

ঐকমত্য কমিশনের দুটি বিকল্প সুপারিশ

কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প সুপারিশ দিয়েছে, যার মূল কাঠামো অভিন্ন। দুটি সুপারিশেই বলা হয়েছে:

  1. আদেশ জারি: প্রথমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আদেশ জারি করতে হবে।
  2. গণভোট: এরপর সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য গণভোট অনুষ্ঠান করতে হবে।

গণভোটের সময় নিয়ে সুপারিশ

কমিশন গণভোটের সময় নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে:

  • “উক্ত (জুলাই জাতীয় সনদ) বাস্তবায়ন আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যথোপযুক্ত সময়ে অথবা উক্ত নির্বাচনের দিন উক্ত আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠান করা যেতে পারে।”

সময় সুনির্দিষ্ট না করার কারণ:

সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ জানান, কমিশন লজিস্টিক্যালি এবং প্রস্তুতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জানে না। তাই গণভোটের সময় বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি সরকারকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন, কারণ গণভোট অনুষ্ঠানের কাজটি মূলত নির্বাচন কমিশনের।

 গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের অনড় অবস্থান

জুলাই সনদ গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়ে সব দল একমত হলেও, গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী দুই মেরুতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই দুইটা ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের দাবী জানিয়েছে ।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এটা বিএনপির প্রথম দিন থেকে অবস্থান এবং এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী নভেম্বর মাসে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের দাবী জানিয়েছে ।দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একই দিনে ভোট হলে সহিংসতা হতে পারে, ভোট কাস্টিং কমে যাবে এবং প্রার্থীর দ্বন্দ্বে গণভোটের ফলও বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি আরও যুক্তি দেন, ভোটারদের সংস্কারের বিষয়গুলো জানার সুযোগ দিতে হবে, যার জন্য নভেম্বরই উপযুক্ত সময়।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত দুটি দলই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া ১৮ দফা সুপারিশের মধ্যেও নভেম্বর মাসে গণভোটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

জনপ্রিয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ ও গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ

প্রকাশিত : ০১:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ হস্তান্তর করেছে। এই সুপারিশে সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে গণভোটের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই সুপারিশ জমা দেন।

ঐকমত্য কমিশনের দুটি বিকল্প সুপারিশ

কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প সুপারিশ দিয়েছে, যার মূল কাঠামো অভিন্ন। দুটি সুপারিশেই বলা হয়েছে:

  1. আদেশ জারি: প্রথমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আদেশ জারি করতে হবে।
  2. গণভোট: এরপর সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য গণভোট অনুষ্ঠান করতে হবে।

গণভোটের সময় নিয়ে সুপারিশ

কমিশন গণভোটের সময় নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে:

  • “উক্ত (জুলাই জাতীয় সনদ) বাস্তবায়ন আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যথোপযুক্ত সময়ে অথবা উক্ত নির্বাচনের দিন উক্ত আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠান করা যেতে পারে।”

সময় সুনির্দিষ্ট না করার কারণ:

সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ জানান, কমিশন লজিস্টিক্যালি এবং প্রস্তুতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জানে না। তাই গণভোটের সময় বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি সরকারকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন, কারণ গণভোট অনুষ্ঠানের কাজটি মূলত নির্বাচন কমিশনের।

 গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের অনড় অবস্থান

জুলাই সনদ গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়ে সব দল একমত হলেও, গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী দুই মেরুতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই দুইটা ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের দাবী জানিয়েছে ।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এটা বিএনপির প্রথম দিন থেকে অবস্থান এবং এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী নভেম্বর মাসে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের দাবী জানিয়েছে ।দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একই দিনে ভোট হলে সহিংসতা হতে পারে, ভোট কাস্টিং কমে যাবে এবং প্রার্থীর দ্বন্দ্বে গণভোটের ফলও বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি আরও যুক্তি দেন, ভোটারদের সংস্কারের বিষয়গুলো জানার সুযোগ দিতে হবে, যার জন্য নভেম্বরই উপযুক্ত সময়।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত দুটি দলই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া ১৮ দফা সুপারিশের মধ্যেও নভেম্বর মাসে গণভোটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।