০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি

শিশু পরিচর্যা, নারীর কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিঃ তারেক রহমান 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশু পরিচর্যাকে জাতীয় অর্থনীতির একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ না থাকায় নারীরা যে সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ।

বর্তমান পরিস্থিতি ও সমস্যা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, পুরুষদের (৮০%) তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম (৪৩%)।এই বিশাল ব্যবধান দেখায় যে জাতি তার অর্ধেকেরও বেশি মেধা ও দক্ষতাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে কোনো নারীকে তার পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না।

বিএনপি’র প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশল

বিএনপি সারাদেশে এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে, যাতে শিশু পরিচর্যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হয়। এর জন্য তাদের পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো রয়েছে। সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সরকারি অফিসগুলোতে ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন। বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা চালু। যেসব নিয়োগকর্তা শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখবে, তাদের জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর ক্রেডিট প্রদান। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব

তারেক রহমান এই সংস্কারের সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরেছেন। এই সংস্কার নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে পারে। এই একটি সংস্কার জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে পারে। তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নারী হওয়ায়, কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা থাকে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যেই খরচ তুলে আনতে পারে। তারেক রহমানের মতে, “শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। সড়ক যেমন বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।”

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

বিএনপি’র দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যেখানে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, দেশের প্রবৃদ্ধিতে গর্বের সঙ্গে অবদান রাখবে। তিনি নারীর সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে এমন যেকোনো পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি

শিশু পরিচর্যা, নারীর কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিঃ তারেক রহমান 

প্রকাশিত : ০১:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশু পরিচর্যাকে জাতীয় অর্থনীতির একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ না থাকায় নারীরা যে সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ।

বর্তমান পরিস্থিতি ও সমস্যা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, পুরুষদের (৮০%) তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম (৪৩%)।এই বিশাল ব্যবধান দেখায় যে জাতি তার অর্ধেকেরও বেশি মেধা ও দক্ষতাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে কোনো নারীকে তার পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না।

বিএনপি’র প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশল

বিএনপি সারাদেশে এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে, যাতে শিশু পরিচর্যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হয়। এর জন্য তাদের পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো রয়েছে। সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সরকারি অফিসগুলোতে ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন। বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা চালু। যেসব নিয়োগকর্তা শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখবে, তাদের জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর ক্রেডিট প্রদান। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব

তারেক রহমান এই সংস্কারের সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরেছেন। এই সংস্কার নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে পারে। এই একটি সংস্কার জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে পারে। তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নারী হওয়ায়, কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা থাকে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যেই খরচ তুলে আনতে পারে। তারেক রহমানের মতে, “শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। সড়ক যেমন বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।”

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

বিএনপি’র দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যেখানে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, দেশের প্রবৃদ্ধিতে গর্বের সঙ্গে অবদান রাখবে। তিনি নারীর সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে এমন যেকোনো পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।