অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না। বর্তমান সরকার যেহেতু বিষয়টি ‘ইনিশিয়েট’ (শুরু) করেছে, তাই আগামী সরকার হয়তো এটিকে সহজ করতে পারে।
🌍 আইএমএফ (IMF)-এর সাথে আলোচনা
- চূড়ান্ত আলোচনা: আইএমএফ-এর সাথে তাঁর চূড়ান্ত কথা হবে ১৫ তারিখে। এর আগে তাঁর জুমে কথা হয়েছে।
- আইএমএফ-এর সন্তুষ্টি: অর্থ উপদেষ্টা জানান, আইএমএফ বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক দিক নিয়ে অত্যন্ত খুশি এবং তারা মনে করে বাংলাদেশ সরকার যা যা করার চেষ্টা করছে, তা সঠিক।
- আইএমএফ-এর সুপারিশ: আইএমএফ-এর কিছু সুপারিশ রয়েছে:
- রাজস্ব আয় বৃদ্ধি: ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কম হওয়ায় এটি বাড়াতে হবে। অর্থ উপদেষ্টা এর কারণ হিসেবে জনগণের ট্যাক্স দিতে না চাওয়া এবং দুই মাস এনবিআর বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করেন।
- সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় বৃদ্ধি: বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং খাদ্য খাতে আরও বেশি ব্যয় করতে হবে। খাদ্য খাতে সরকার মোটামুটি ভালো করছে বলে তিনি জানান।
🎯 অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ও সংস্কার
- নির্বাচনের পূর্বে কাজ: নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি, এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আগে তারা যতটুকু কাজ করেছেন, সেটিকে ‘কনসলিডেট’ (সুসংহত) করবেন।
- সংস্কার: সংস্কার একটি ‘কন্টিনিউ প্রসেস’ (ধারাবাহিক প্রক্রিয়া), যা শেষ করা যাবে না। তারা প্রধান প্রধান সংস্কার কাজগুলোকে ‘প্যাকেজিং’ করে আগামী সরকারের কাছে তুলে দেবেন।
- কমিটি গঠন: ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কিছু অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি স্বাধীন কমিটি করেছেন, যারা কিছু সুপারিশ দেবে।
🏦 ব্যাংকিং খাত
- সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থ উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে ব্যাংকিং সেক্টরই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, এই সেক্টরে যে কাজ শুরু হয়েছে, বাকি কাজগুলো ধীরে ধীরে করা হবে এবং এই বিষয়গুলো আগামী সরকারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
💵 আইএমএফ ঋণের ৬ষ্ঠ কিস্তি
- প্রাপ্তির সময়: আইএমএফ-এর ঋণের ৬ষ্ঠ কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাওয়া যাবে না।
- কারণ: আইএমএফ রাজি হয়েছে যে এখন কোনো প্রয়োজন নেই। তারা রিভিউ কমপ্লিট করবে, কারণ তারা দেখতে চায় যে একটি রাজনৈতিক সরকার এসে এই সংস্কার কাজগুলো কতটুকু ধারণ করে।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: ফেব্রুয়ারির দিকে নির্বাচনের সাথে সাথে আইএমএফ আবার রিভিউতে আসবে এবং তারপর তারা কিস্তি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, নতুন পে কমিশনের বিষয়টি আগামী সরকারের বিবেচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, যদিও সংস্কার প্রক্রিয়াটিকে সুসংহত করে প্যাকেজ আকারে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









