০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৬৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সুপারিশ করেছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের ৬৪টি জেলায় ৩০০টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ থাকবে। ইসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি এবং ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রাথমিকভাবে ১৪টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিহ্নিত ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। এর অর্থ হলো, মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসবি বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করে কেন্দ্রগুলোর ধরন নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো, নিকটস্থ থানা থেকে তার দূরত্ব, কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাসস্থান ইত্যাদি। এছাড়াও, সংস্থাটি সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্র এবং সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোকেও আলাদাভাবে শনাক্ত করেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসবি তাদের সুপারিশে বলেছে, মাঠ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য বাহিনীর আন্তঃকমান্ড নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্রের জোগান আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তারা সাধারণত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন এবং এসবি’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। পূর্বের নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও এসবি’র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন বাহিনীর কতজন সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে তা স্থির করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, যেখানে বাড়তি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারও অনুরূপভাবে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তুতির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সংস্থাটি প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে। এসবি’র দেওয়া এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে, যাতে বিপুল সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৬৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশিত : ০৩:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সুপারিশ করেছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের ৬৪টি জেলায় ৩০০টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ থাকবে। ইসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি এবং ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রাথমিকভাবে ১৪টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিহ্নিত ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। এর অর্থ হলো, মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসবি বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করে কেন্দ্রগুলোর ধরন নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো, নিকটস্থ থানা থেকে তার দূরত্ব, কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাসস্থান ইত্যাদি। এছাড়াও, সংস্থাটি সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্র এবং সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোকেও আলাদাভাবে শনাক্ত করেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসবি তাদের সুপারিশে বলেছে, মাঠ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য বাহিনীর আন্তঃকমান্ড নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্রের জোগান আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তারা সাধারণত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন এবং এসবি’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। পূর্বের নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও এসবি’র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন বাহিনীর কতজন সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে তা স্থির করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, যেখানে বাড়তি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারও অনুরূপভাবে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তুতির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সংস্থাটি প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে। এসবি’র দেওয়া এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে, যাতে বিপুল সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।