১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা কমিটিতে গণপদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাপক অসন্তোষ ও দফায় দফায় পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন নেতার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন কমিটিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে নিজেদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও মনোমালিন্যকে দায়ী করা হচ্ছে। পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, কমিটি গঠনে ন্যায়বিচারের অভাব ছিল এবং তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রথম পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত। তার দেখানো পথ ধরে দ্রুতই অন্যান্য পদধারী নেতারাও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সূত্র অনুযায়ী, যুগ্ম সদস্য সচিব-১ ব্যতীত অন্য সব যুগ্ম সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবসহ একাধিক পদধারী নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়টি কালযাত্রা-কে নিশ্চিত করেছেন পদত্যাগকারী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছিলাম, আজ আমরাই বৈষম্যের শিকার হলাম। কেন্দ্রীয় নেতারা পছন্দের মানুষ দিয়ে কমিটি করেছে তাই পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। সব মিলিয়ে এই কমিটি আর চলার মতো অবস্থায় নেই।”

তিনি আরও জানান যে, ৪১ সদস্যের কমিটি থেকে ইতিমধ্যেই ২৩ জন পদত্যাগ করেছেন, যাদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, এমনকি শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারাও রয়েছেন। আরাফাত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, তারা খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এবং তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তবে, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পদত্যাগকারীরা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি

অন্যদিকে, নবগঠিত কমিটির মুখ্য সংগঠক মাহমুদুল হাসান রাফি পদত্যাগের খবরটিকে লঘু করার চেষ্টা করেছেন। তিনি কালযাত্রা-কে জানান, নোয়াখালী জেলা যুব শক্তির কমিটি থেকে অফিসিয়ালি কেউ পদত্যাগ করেছেন বলে তাদের জানা নেই। জেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবও কোনো ধরনের পদত্যাগপত্র পাননি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ফেসবুকে পোস্ট করে দুজনের পদত্যাগের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “মান অভিমান ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।”

এই গণপদত্যাগের ফলে নবগঠিত জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার কার্যক্রম শুরুতেই ব্যাপক অস্থিরতার মুখে পড়ল।

জনপ্রিয়

জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা কমিটিতে গণপদত্যাগ

প্রকাশিত : ০৮:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাপক অসন্তোষ ও দফায় দফায় পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন নেতার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন কমিটিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে নিজেদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও মনোমালিন্যকে দায়ী করা হচ্ছে। পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, কমিটি গঠনে ন্যায়বিচারের অভাব ছিল এবং তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রথম পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত। তার দেখানো পথ ধরে দ্রুতই অন্যান্য পদধারী নেতারাও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সূত্র অনুযায়ী, যুগ্ম সদস্য সচিব-১ ব্যতীত অন্য সব যুগ্ম সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবসহ একাধিক পদধারী নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়টি কালযাত্রা-কে নিশ্চিত করেছেন পদত্যাগকারী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছিলাম, আজ আমরাই বৈষম্যের শিকার হলাম। কেন্দ্রীয় নেতারা পছন্দের মানুষ দিয়ে কমিটি করেছে তাই পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। সব মিলিয়ে এই কমিটি আর চলার মতো অবস্থায় নেই।”

তিনি আরও জানান যে, ৪১ সদস্যের কমিটি থেকে ইতিমধ্যেই ২৩ জন পদত্যাগ করেছেন, যাদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, এমনকি শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারাও রয়েছেন। আরাফাত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, তারা খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এবং তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তবে, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পদত্যাগকারীরা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি

অন্যদিকে, নবগঠিত কমিটির মুখ্য সংগঠক মাহমুদুল হাসান রাফি পদত্যাগের খবরটিকে লঘু করার চেষ্টা করেছেন। তিনি কালযাত্রা-কে জানান, নোয়াখালী জেলা যুব শক্তির কমিটি থেকে অফিসিয়ালি কেউ পদত্যাগ করেছেন বলে তাদের জানা নেই। জেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবও কোনো ধরনের পদত্যাগপত্র পাননি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ফেসবুকে পোস্ট করে দুজনের পদত্যাগের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “মান অভিমান ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।”

এই গণপদত্যাগের ফলে নবগঠিত জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার কার্যক্রম শুরুতেই ব্যাপক অস্থিরতার মুখে পড়ল।