০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার

আগামীকাল, সোমবার (১৭ নভেম্বর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের অংশ বিশেষ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) বিটিভির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অন্যান্য গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। তিনি জানান, আদালতের সম্মতিক্রমে রায়ের অংশটুকু সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

মামলার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট

এই মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে আবেদনের বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন।

অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:

  • প্রথম অভিযোগ (গণহত্যা ও উসকানি): গত বছর ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, আসাদুজ্জামান খান ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মাত্রায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে। এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আনুমানিক দেড় হাজার ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হন।

  • দ্বিতীয় অভিযোগ (মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ): শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীর মাধ্যমে সেই নির্দেশ কার্যকর করেন। গত বছরের ১৪ ও ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের অডিও রেকর্ড থেকে জানা যায় যে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে মারণাস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে সব বাহিনী, আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন এবং ১৪-দলীয় জোটের কাছে পৌঁছানো হয়, যার আলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এই অপরাধের দায়ে তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (সর্বোচ্চ দায়) আওতায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

  • তৃতীয় অভিযোগ (রংপুর): রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান এবং মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • চতুর্থ অভিযোগ (চানখাঁরপুল, ঢাকা): রাজধানীর চানখাঁরপুলে আন্দোলনরত নিরীহ-নিরস্ত্র ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায়ও শেখ হাসিনা ও অপর দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • পঞ্চম অভিযোগ (আশুলিয়া): আশুলিয়ায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায়ও শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান এবং মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক রায়ের দিকে এখন গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার

প্রকাশিত : ০১:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

আগামীকাল, সোমবার (১৭ নভেম্বর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের অংশ বিশেষ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) বিটিভির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অন্যান্য গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। তিনি জানান, আদালতের সম্মতিক্রমে রায়ের অংশটুকু সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

মামলার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট

এই মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে আবেদনের বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন।

অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:

  • প্রথম অভিযোগ (গণহত্যা ও উসকানি): গত বছর ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, আসাদুজ্জামান খান ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মাত্রায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে। এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আনুমানিক দেড় হাজার ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হন।

  • দ্বিতীয় অভিযোগ (মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ): শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীর মাধ্যমে সেই নির্দেশ কার্যকর করেন। গত বছরের ১৪ ও ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের অডিও রেকর্ড থেকে জানা যায় যে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে মারণাস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে সব বাহিনী, আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন এবং ১৪-দলীয় জোটের কাছে পৌঁছানো হয়, যার আলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এই অপরাধের দায়ে তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (সর্বোচ্চ দায়) আওতায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

  • তৃতীয় অভিযোগ (রংপুর): রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান এবং মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • চতুর্থ অভিযোগ (চানখাঁরপুল, ঢাকা): রাজধানীর চানখাঁরপুলে আন্দোলনরত নিরীহ-নিরস্ত্র ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায়ও শেখ হাসিনা ও অপর দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • পঞ্চম অভিযোগ (আশুলিয়া): আশুলিয়ায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায়ও শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান এবং মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক রায়ের দিকে এখন গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ।