আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (যা গণভোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে পারে) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ক্যামেরা স্থাপন ও তদারকির দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দিতে চায় ইসি, কারণ এটির ব্যয়ভার বহন ও লোকবল কমিশনের নেই।
📸 সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ইসির অবস্থান
ইসি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করতে চায়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সিসি ক্যামেরা ব্যবহার ভোটের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে এবং সেগুলোর তদারকি করার জন্য কমিশনের লোকবল নেই। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্রহের কারণে তাদের মাধ্যমেই বিষয়টি বাস্তবায়নের পক্ষে ইসি।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য ইসির কাছে আর্থিক সহায়তা চাইলে কমিশন তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলোই ব্যবহার করা হবে। এজন্য মাঠ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠেয় বৈঠকের কার্যপত্রে উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন উল্লেখ করেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৪তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।
🚨 ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান ও ফোর্স মোতায়েন
পুলিশের এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ)-এর তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটকেন্দ্রের একটি বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে:
| কেন্দ্রের ধরন | সংখ্যা | শতাংশ |
| অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র | ৮,২২৬ টি | – |
| ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র | ২০,৪৩৭ টি | – |
| মোট ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র | ২৮,৬৬৩ টি | মোট ভোটকেন্দ্রের ৬৭% |
এসবি ভৌত অবকাঠামো, থানা থেকে দূরত্ব এবং নিকটবর্তী প্রভাবশালীদের বাসস্থান বিবেচনায় কেন্দ্রের ধরন নির্ধারণ করেছে।
📅 নিরাপত্তা ফোর্স মোতায়েন পরিকল্পনা
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ায় নিরাপত্তা ছক নতুন করে সাজানো হবে এবং ফোর্স মোতায়েন বাড়তে পারে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোতায়েন করা ফোর্সের সংখ্যা (যা এবার বাড়তে পারে):
-
ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে (পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ):
-
ধারণ কেন্দ্র (মেট্রোপলিটনের বাইরে): ১৬ জন।
-
গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র/ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র (মেট্রোপলিটনের বাইরে): ১৭ জন।
-
সাধারণ কেন্দ্র (মেট্রোপলিটন এলাকায়): ১৫ জন।
-
গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র/ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র (মেট্রোপলিটন এলাকায়): ১৬ জন।
-
মোট পুলিশ নিয়োজিত ছিল: ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২ জন।
-
মোট আনসার নিয়োজিত ছিল: ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৮৮ জন।
-
-
মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স: বিজিবি (১,১১৫ প্লাটুন), কোস্টগার্ড (৭৫ প্লাটুন), র্যাব (৬০০ টিম), সেনাবাহিনী (৩৮,১৫৪ জন), নৌবাহিনী (২,৮২৭ জন)।
📅 নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি
-
মোট ভোটকেন্দ্র: ৪২ হাজার ৭৬১টি (৬৪ জেলা, ৩০০ আসন)।
-
মোট কক্ষ সংখ্যা: ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি।
-
সময়সীমা: ইসি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করতে চায়।
-
তফসিল: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
🛡️ অন্যান্য নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পদক্ষেপসমূহ
ভোটের নিরাপত্তায় ইসি বেশ কিছু বিস্তৃত পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে:
-
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার রোধ ও নিয়ন্ত্রণ; বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
-
প্রচার সামগ্রী অপসারণ: সারাদেশ থেকে পোস্টার, ব্যানার, গেট, তোরণ ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী অপসারণ।
-
কর্মী ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা: ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোটকেন্দ্র এবং রিটার্নিং/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
-
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন: নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে মোতায়েন পরিকল্পনা প্রণয়ন।
-
বিশেষ নিরাপত্তা: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
-
অন্যান্য উদ্যোগ: নির্বাচনী দ্রব্যাদি পরিবহনে নিরাপত্তা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে পুলিশ ফোর্স নিয়োজিতকরণ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রচারণা রোধ, ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ, এবং বিদেশী সাংবাদিক ও প্রাক-পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









