০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভূমিকম্প: বিজ্ঞান ও ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা ও করণীয়

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা ভূ-পৃষ্ঠের নিচে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া ও সংঘর্ষের ফলে সংঘটিত হয়। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রায়শই ঐশ্বরিক নিদর্শন, সতর্কবার্তা বা ঐশ্বরিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: পৃথিবীর বাইরের শক্ত স্তর, যা লিথোস্ফিয়ার নামে পরিচিত, কয়েকটি বিশাল খণ্ড বা প্লেটে বিভক্ত। এই টেকটোনিক প্লেটগুলো পৃথিবীর ম্যান্টলের ওপর ধীরে ধীরে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং বছরে কয়েক সেন্টিমিটার হারে নড়াচড়া করে। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের পাশ দিয়ে সরে যায় বা ধাক্কা খায়, তখন তাদের সংযোগস্থলে (ফল্টলাইন) প্রচণ্ড চাপ ও শক্তি জমা হতে থাকে। এই জমা হওয়া শক্তির পরিমাণ পাথরের সহ্যক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে, হঠাৎ করে তা তীব্র কম্পন বা তরঙ্গের আকারে নির্গত হয়। এই কম্পন তরঙ্গগুলোই পৃথিবীপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি করে, যা আমরা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভব করি। এছাড়াও, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং মানুষের কিছু কার্যকলাপ, যেমন বড় বাঁধ নির্মাণ বা খনি অঞ্চলে বিস্ফোরণ, ছোট আকারের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ:

ইসলামে ভূমিকম্প: ইসলামে ভূমিকম্পকে মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা বা পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ আছে, এটি মানুষের পাপাচার ও অন্যায়ের ফল হতে পারে এবং কিয়ামতের (শেষ দিনের) অন্যতম লক্ষণ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।ইসলামী ইতিহাস অনুসারে, আল্লাহ অতীতে পাপী ও অবাধ্যতার জন্য একাধিক জাতিকে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে শাস্তি প্রদান করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি হলো:

  • হযরত সালেহের (আ.) জাতি (সামুদ): নবীর সতর্কবাণী অস্বীকার করে উটনীকে হত্যার ফলে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়।

  • হযরত শুয়াইবের (আ.) জাতি (মাদিয়ান): ওজনে কম দেওয়া এবং অন্যান্য পাপাচারের কারণে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

  • হযরত লূতের (আ.) জাতি (সাদোম ও গোমরা): সমকামিতার মতো চরম অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকায় তাদের শহরগুলো উল্টে দেওয়া হয়, যার সাথে তীব্র ভূমিকম্প ও পাথরবৃষ্টি হয়।

  • হযরত মুসার (আ.) জাতির ৭০ জন লোক: বনী ইসরাইলের নির্বাচিত ৭০ জন লোক তাদের পাপের কারণে ভূমিকম্পের শিকার হয়েছিলেন।

  • কারুন: সম্পদ নিয়ে অহংকার করায় আল্লাহ তাকে তার সম্পদসহ জমিনে গেঁথে দিয়েছিলেন।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে ১৫টি অপরাধের কারণে ভূমিকম্প আসার কথা উল্লেখ আছে, যা বর্তমান সমাজে ব্যাপক হারে বিদ্যমান। এই অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে গনিমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হওয়া, জাকাতকে জরিমানা মনে করা, ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন, মায়ের অবাধ্যতা, মসজিদে কলরব, পাপাচারীদের নেতা হওয়া, গায়িকা-নর্তকী ও বাদ্যযন্ত্রের বিস্তার এবং মদ পান। একটি হাদিসে বলা হয়েছে, তখন অগ্নিবায়ু, ভূমিধস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণরূপ শাস্তির অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। কোরআনে ‘যিলযাল’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে। রাসুলের (সা.) সাহাবাদের বিশ্বাস ছিল মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়।

বাইবেলে ভূমিকম্প: বাইবেলে ভূমিকম্পকে ঈশ্বরের ক্ষমতা, বিচার বা উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি যীশুর পুনরুত্থান বা শেষ দিনের লক্ষণের মতো ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। এই গ্রন্থ অনুসারে, প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী এবং ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাচীন বৈদিক ও হিন্দু সংস্কৃতিতে: প্রাচীন বৈদিক ও হিন্দু সংস্কৃতিতে, ভূমিকম্পের পৌরাণিক ব্যাখ্যা রয়েছে। কিছু কিংবদন্তি অনুসারে, পৃথিবী মহাজাগতিক সর্প শেষ নাগের ফণার ওপর স্থাপিত এবং তার অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকম্প হয়। দেবতা বা দানবদের কার্যকলাপ বা মানুষের দুষ্কর্মের শাস্তি হিসেবেও ভূমিকম্পকে দেখা হয়।

বৌদ্ধধর্মে: বৌদ্ধধর্মে, ভূমিকম্পকে গভীর আধ্যাত্মিক কম্পনের প্রতীক মনে করা হয়। এটি বুদ্ধের জ্ঞানলাভ বা তার মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত মহাজাগতিক অস্থিরতার প্রতীক হতে পারে। সূত্র শিক্ষাদানের সময়ও ভূমিকম্পকে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়, যা মহাজাগতিক প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতাকে তুলে ধরে।

করণীয়:

  • বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে: ভূমিকম্প সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ এবং ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি, যেমন ভবনকে মজবুত করা এবং ভূমিকম্পের সময় সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেওয়া, ঝুঁকির মাত্রা কমাতে পারে।

  • ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে: ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে এর জন্য করণীয় হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাওবা করা এবং নিজেদের আচরণ সংশোধন করা। এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, পাপ থেকে দূরে থাকা ও নিজেদের কার্যকলাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া প্রধান কাজ।

সারসংক্ষেপে, ধর্ম ও বিজ্ঞান উভয়ই একমত যে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। উভয় ব্যাখ্যাই মানুষের কাছে সৃষ্টিকর্তার অসীম ক্ষমতা ও মহত্ত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং নিজেদের শুধরে নেওয়ার আহ্বান জানায়। পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের কারণগুলো, যা নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের সাথে জড়িত ছিল, আজকের সমাজে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। তাই আজাব আসার আগেই সতর্ক হওয়া এবং পাপ থেকে ফিরে আসা সময়ের দাবি।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

ভূমিকম্প: বিজ্ঞান ও ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা ও করণীয়

প্রকাশিত : ০৯:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা ভূ-পৃষ্ঠের নিচে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া ও সংঘর্ষের ফলে সংঘটিত হয়। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রায়শই ঐশ্বরিক নিদর্শন, সতর্কবার্তা বা ঐশ্বরিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: পৃথিবীর বাইরের শক্ত স্তর, যা লিথোস্ফিয়ার নামে পরিচিত, কয়েকটি বিশাল খণ্ড বা প্লেটে বিভক্ত। এই টেকটোনিক প্লেটগুলো পৃথিবীর ম্যান্টলের ওপর ধীরে ধীরে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং বছরে কয়েক সেন্টিমিটার হারে নড়াচড়া করে। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের পাশ দিয়ে সরে যায় বা ধাক্কা খায়, তখন তাদের সংযোগস্থলে (ফল্টলাইন) প্রচণ্ড চাপ ও শক্তি জমা হতে থাকে। এই জমা হওয়া শক্তির পরিমাণ পাথরের সহ্যক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে, হঠাৎ করে তা তীব্র কম্পন বা তরঙ্গের আকারে নির্গত হয়। এই কম্পন তরঙ্গগুলোই পৃথিবীপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি করে, যা আমরা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভব করি। এছাড়াও, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং মানুষের কিছু কার্যকলাপ, যেমন বড় বাঁধ নির্মাণ বা খনি অঞ্চলে বিস্ফোরণ, ছোট আকারের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ:

ইসলামে ভূমিকম্প: ইসলামে ভূমিকম্পকে মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা বা পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ আছে, এটি মানুষের পাপাচার ও অন্যায়ের ফল হতে পারে এবং কিয়ামতের (শেষ দিনের) অন্যতম লক্ষণ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।ইসলামী ইতিহাস অনুসারে, আল্লাহ অতীতে পাপী ও অবাধ্যতার জন্য একাধিক জাতিকে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে শাস্তি প্রদান করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি হলো:

  • হযরত সালেহের (আ.) জাতি (সামুদ): নবীর সতর্কবাণী অস্বীকার করে উটনীকে হত্যার ফলে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়।

  • হযরত শুয়াইবের (আ.) জাতি (মাদিয়ান): ওজনে কম দেওয়া এবং অন্যান্য পাপাচারের কারণে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

  • হযরত লূতের (আ.) জাতি (সাদোম ও গোমরা): সমকামিতার মতো চরম অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকায় তাদের শহরগুলো উল্টে দেওয়া হয়, যার সাথে তীব্র ভূমিকম্প ও পাথরবৃষ্টি হয়।

  • হযরত মুসার (আ.) জাতির ৭০ জন লোক: বনী ইসরাইলের নির্বাচিত ৭০ জন লোক তাদের পাপের কারণে ভূমিকম্পের শিকার হয়েছিলেন।

  • কারুন: সম্পদ নিয়ে অহংকার করায় আল্লাহ তাকে তার সম্পদসহ জমিনে গেঁথে দিয়েছিলেন।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে ১৫টি অপরাধের কারণে ভূমিকম্প আসার কথা উল্লেখ আছে, যা বর্তমান সমাজে ব্যাপক হারে বিদ্যমান। এই অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে গনিমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হওয়া, জাকাতকে জরিমানা মনে করা, ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন, মায়ের অবাধ্যতা, মসজিদে কলরব, পাপাচারীদের নেতা হওয়া, গায়িকা-নর্তকী ও বাদ্যযন্ত্রের বিস্তার এবং মদ পান। একটি হাদিসে বলা হয়েছে, তখন অগ্নিবায়ু, ভূমিধস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণরূপ শাস্তির অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। কোরআনে ‘যিলযাল’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে। রাসুলের (সা.) সাহাবাদের বিশ্বাস ছিল মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়।

বাইবেলে ভূমিকম্প: বাইবেলে ভূমিকম্পকে ঈশ্বরের ক্ষমতা, বিচার বা উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি যীশুর পুনরুত্থান বা শেষ দিনের লক্ষণের মতো ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। এই গ্রন্থ অনুসারে, প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী এবং ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাচীন বৈদিক ও হিন্দু সংস্কৃতিতে: প্রাচীন বৈদিক ও হিন্দু সংস্কৃতিতে, ভূমিকম্পের পৌরাণিক ব্যাখ্যা রয়েছে। কিছু কিংবদন্তি অনুসারে, পৃথিবী মহাজাগতিক সর্প শেষ নাগের ফণার ওপর স্থাপিত এবং তার অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকম্প হয়। দেবতা বা দানবদের কার্যকলাপ বা মানুষের দুষ্কর্মের শাস্তি হিসেবেও ভূমিকম্পকে দেখা হয়।

বৌদ্ধধর্মে: বৌদ্ধধর্মে, ভূমিকম্পকে গভীর আধ্যাত্মিক কম্পনের প্রতীক মনে করা হয়। এটি বুদ্ধের জ্ঞানলাভ বা তার মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত মহাজাগতিক অস্থিরতার প্রতীক হতে পারে। সূত্র শিক্ষাদানের সময়ও ভূমিকম্পকে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়, যা মহাজাগতিক প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতাকে তুলে ধরে।

করণীয়:

  • বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে: ভূমিকম্প সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ এবং ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি, যেমন ভবনকে মজবুত করা এবং ভূমিকম্পের সময় সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেওয়া, ঝুঁকির মাত্রা কমাতে পারে।

  • ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে: ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে এর জন্য করণীয় হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাওবা করা এবং নিজেদের আচরণ সংশোধন করা। এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, পাপ থেকে দূরে থাকা ও নিজেদের কার্যকলাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া প্রধান কাজ।

সারসংক্ষেপে, ধর্ম ও বিজ্ঞান উভয়ই একমত যে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। উভয় ব্যাখ্যাই মানুষের কাছে সৃষ্টিকর্তার অসীম ক্ষমতা ও মহত্ত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং নিজেদের শুধরে নেওয়ার আহ্বান জানায়। পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের কারণগুলো, যা নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের সাথে জড়িত ছিল, আজকের সমাজে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। তাই আজাব আসার আগেই সতর্ক হওয়া এবং পাপ থেকে ফিরে আসা সময়ের দাবি।