বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই শোকবার্তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার গুরুত্ব ও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরই স্বীকৃতি।
ঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পৃথক শোকবার্তায় তাঁদের সমবেদনা জানান।
১. মমতা ব্যানার্জীর শোকবার্তা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বেগম জিয়াকে একজন ‘অন্যতম জননেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন:
-
“বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত।”
-
তিনি মরহুমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং তাঁর অগণিত রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
২. নরেন্দ্র মোদীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেছেন। তাঁর বার্তার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
-
মোদী বেগম জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
-
তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় বেগম জিয়ার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।
-
২০১৫ সালে ঢাকা সফরের সময় বেগম জিয়ার সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
-
তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।
ভারতের শীর্ষ দুই নেতার এই তাৎক্ষণিক শোকবার্তা প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রয়াণ কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
আজ থেকে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে এবং আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










