০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়: জানাজা ও দাফন কর্মসূচির বিস্তারিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থান হলো রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব এই জানাজা পরিচালনা করবেন। পুরো জানাজা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত করা হবে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে। তাঁর আজীবনের রাজনৈতিক সঙ্গী ও স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই হবে দেশনেত্রীর শেষ ঠিকানা।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, বেগম জিয়ার প্রয়াণে জাতি আজ এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন। এই গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ কিছু আহ্বান জানান:

  • ধৈর্য ও শালীনতা: জানাজা ও দাফন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য, শালীনতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

  • কর্মসূচিতে বিঘ্ন রোধ: জানাজা বা দাফনের সময় কোনোভাবেই যেন নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে দাফনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কাউকে সামনে এগিয়ে না যেতে বা ভিড় সৃষ্টি না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ছবি তোলা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: সমাধিস্থ করার সময় ছবি তোলা বা অহেতুক ভিড় করে মরহুমের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন শোক সইবার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি এই শোকাবহ বিদায় অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

জনপ্রিয়

বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়: জানাজা ও দাফন কর্মসূচির বিস্তারিত

প্রকাশিত : ০৩:২৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থান হলো রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব এই জানাজা পরিচালনা করবেন। পুরো জানাজা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত করা হবে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে। তাঁর আজীবনের রাজনৈতিক সঙ্গী ও স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই হবে দেশনেত্রীর শেষ ঠিকানা।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, বেগম জিয়ার প্রয়াণে জাতি আজ এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন। এই গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ কিছু আহ্বান জানান:

  • ধৈর্য ও শালীনতা: জানাজা ও দাফন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য, শালীনতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

  • কর্মসূচিতে বিঘ্ন রোধ: জানাজা বা দাফনের সময় কোনোভাবেই যেন নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে দাফনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কাউকে সামনে এগিয়ে না যেতে বা ভিড় সৃষ্টি না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ছবি তোলা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: সমাধিস্থ করার সময় ছবি তোলা বা অহেতুক ভিড় করে মরহুমের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন শোক সইবার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি এই শোকাবহ বিদায় অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।