০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপিতে রেদোয়ান-ববি-ফরিদুজ্জামান: ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট ও নতুন মেরুকরণ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে কুমিল্লা-৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

এ ছাড়া নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছিলেন, তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে আমরা যে সিদ্ধান্তগুলোতে একমত হতে পেরেছি, সেই আসনগুলোতে আমরা সমঝোতা করেছি। এই তালিকার পরও আলোচনা চলবে, তারপরে সিদ্ধান্ত হলে আমরা জানাব।

আসনগুলো হলো—
১. বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

২. পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার।

৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
৪. যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস।
৫. ঝিনাইদহ-৪ গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
৭. পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।
৮. নড়াইল-২ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।মির্জা ফখরুল বলেন, যাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে, তারা নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবেন এবং যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম।

বিএনপি শরিকদের আসন বণ্টনে ছাড় দেবে, এর সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু আমার দলের চেয়ারম্যান অলি আহমদ বিএনপির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। এলডিপির বেশির ভাগ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সারা দেশে এলডিপির নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, অলি আহমদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় একমত হবেন। তবে অলি সাহেব নির্বাচনে আসুক আর না আসুক, আমি বিএনপির সমঝোতায় একমত হয়ে নির্বাচন করব।ড. রেদোয়ান আহমেদের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক বড় ধরণের মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঠিক আগের দিন এই বড় বড় নেতাদের বিএনপিতে যোগদান এবং শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, ববি হাজ্জাজ এবং ফরিদুজ্জামান ফরহাদের মতো নেতাদের বিএনপিতে আসা এবং নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিএনপিতে রেদোয়ান-ববি-ফরিদুজ্জামান: ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট ও নতুন মেরুকরণ

প্রকাশিত : ০৫:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে কুমিল্লা-৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

এ ছাড়া নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছিলেন, তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে আমরা যে সিদ্ধান্তগুলোতে একমত হতে পেরেছি, সেই আসনগুলোতে আমরা সমঝোতা করেছি। এই তালিকার পরও আলোচনা চলবে, তারপরে সিদ্ধান্ত হলে আমরা জানাব।

আসনগুলো হলো—
১. বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

২. পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার।

৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
৪. যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস।
৫. ঝিনাইদহ-৪ গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
৭. পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।
৮. নড়াইল-২ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।মির্জা ফখরুল বলেন, যাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে, তারা নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবেন এবং যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম।

বিএনপি শরিকদের আসন বণ্টনে ছাড় দেবে, এর সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু আমার দলের চেয়ারম্যান অলি আহমদ বিএনপির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। এলডিপির বেশির ভাগ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সারা দেশে এলডিপির নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, অলি আহমদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় একমত হবেন। তবে অলি সাহেব নির্বাচনে আসুক আর না আসুক, আমি বিএনপির সমঝোতায় একমত হয়ে নির্বাচন করব।ড. রেদোয়ান আহমেদের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক বড় ধরণের মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঠিক আগের দিন এই বড় বড় নেতাদের বিএনপিতে যোগদান এবং শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, ববি হাজ্জাজ এবং ফরিদুজ্জামান ফরহাদের মতো নেতাদের বিএনপিতে আসা এবং নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।