০১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে লড়ছেন না আসিফ মাহমুদ: এনসিপির নীতিনির্ধারক ও প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্ব নিলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দলটির এক অনলাইন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে আসিফ মাহমুদ এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে তাকে দলের প্রধান মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, কিন্তু তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি আসিফ মাহমুদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার একজনের সংসদে যাওয়ার চেয়ে যদি আরও অসংখ্য মানুষের সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমি অবদান রাখতে পারি, তবে সেটিই হবে বড় সাফল্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই ট্রানজিশন পিরিয়ডে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সব বিপ্লবী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই তিনি রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আসিফ মাহমুদ আসন্ন নির্বাচনে দুটি ব্যালটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি ব্যালটে সরকার নির্বাচিত হবে যারা পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু অন্য ব্যালটটি হলো সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। তিনি বিশ্বাস করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে বাংলাদেশ ১০০ বছর এগিয়ে যাবে। এনসিপি এই সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে সারাদেশে সর্বাত্মক কাজ করবে।

আসিফ মাহমুদ যে আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন, সেখানে বর্তমানে জোটের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এনসিপি মনে করে, ব্যক্তিগত পদের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ এবং জোটের ঐক্য বর্তমানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আসিফ মাহমুদের এই পদক্ষেপটি দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতির এক নতুন বার্তা। সরাসরি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

জনপ্রিয়

নির্বাচনে লড়ছেন না আসিফ মাহমুদ: এনসিপির নীতিনির্ধারক ও প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্ব নিলেন

প্রকাশিত : ০৯:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দলটির এক অনলাইন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে আসিফ মাহমুদ এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে তাকে দলের প্রধান মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, কিন্তু তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি আসিফ মাহমুদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার একজনের সংসদে যাওয়ার চেয়ে যদি আরও অসংখ্য মানুষের সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমি অবদান রাখতে পারি, তবে সেটিই হবে বড় সাফল্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই ট্রানজিশন পিরিয়ডে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সব বিপ্লবী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই তিনি রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আসিফ মাহমুদ আসন্ন নির্বাচনে দুটি ব্যালটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি ব্যালটে সরকার নির্বাচিত হবে যারা পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু অন্য ব্যালটটি হলো সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। তিনি বিশ্বাস করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে বাংলাদেশ ১০০ বছর এগিয়ে যাবে। এনসিপি এই সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে সারাদেশে সর্বাত্মক কাজ করবে।

আসিফ মাহমুদ যে আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন, সেখানে বর্তমানে জোটের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এনসিপি মনে করে, ব্যক্তিগত পদের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ এবং জোটের ঐক্য বর্তমানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আসিফ মাহমুদের এই পদক্ষেপটি দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতির এক নতুন বার্তা। সরাসরি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।