০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড: অর্থনীতিতে ফিরছে প্রাণের স্পন্দন

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং হুন্ডি দমনে কঠোর অবস্থানের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের ২৭ দিনেই প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা

তুলনামূলক চিত্র ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি

ডিসেম্বরের এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যেমন বেশি, তেমনি চলতি বছরের নভেম্বর মাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।

  • ডিসেম্বর ২০২৪ (২৭ দিন): ২৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

  • নভেম্বর ২০২৫ (২৭ দিন): ২৬০ কোটি ৫ লাখ ৪১ হাজার ডলার।

  • ডিসেম্বর ২০২৫ (২৭ দিন): ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসেই গড়ে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছে, যা অর্থবছরের মোট সংগ্রহকে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় উন্নীত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময় অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় হুন্ডি চক্রের চাহিদা ব্যাপক কমেছে। আগে পাচারকারীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দেশের বাইরে পাঠাত, যার ফলে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে না এসে কালোবাজারে চলে যেত। এখন পাচার কমে যাওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে জাতীয় রিজার্ভে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগে যেখানে বার্ষিক প্রবাসী আয় ১৮ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকত, সেখানে করোনা মহামারির সময় (২০২০-২১) তা ২৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যে গতিতে রেমিট্যান্স আসছে, তা বিগত সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২ হাজার ৩৯১ কোটি ২২ লাখ টাকার তুলনায় চলতি অর্থবছরের সংগ্রহ অনেক বেশি শক্তিশালী।

প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন কেবল ডলার সংকট মেটাতেই সাহায্য করছে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। পাচার রোধ এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই ধারা বজায় থাকলে দেশের আমদানি দায় মেটানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড: অর্থনীতিতে ফিরছে প্রাণের স্পন্দন

প্রকাশিত : ০৯:২৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং হুন্ডি দমনে কঠোর অবস্থানের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের ২৭ দিনেই প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা

তুলনামূলক চিত্র ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি

ডিসেম্বরের এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যেমন বেশি, তেমনি চলতি বছরের নভেম্বর মাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।

  • ডিসেম্বর ২০২৪ (২৭ দিন): ২৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

  • নভেম্বর ২০২৫ (২৭ দিন): ২৬০ কোটি ৫ লাখ ৪১ হাজার ডলার।

  • ডিসেম্বর ২০২৫ (২৭ দিন): ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসেই গড়ে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছে, যা অর্থবছরের মোট সংগ্রহকে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় উন্নীত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময় অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় হুন্ডি চক্রের চাহিদা ব্যাপক কমেছে। আগে পাচারকারীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দেশের বাইরে পাঠাত, যার ফলে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে না এসে কালোবাজারে চলে যেত। এখন পাচার কমে যাওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে জাতীয় রিজার্ভে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগে যেখানে বার্ষিক প্রবাসী আয় ১৮ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকত, সেখানে করোনা মহামারির সময় (২০২০-২১) তা ২৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যে গতিতে রেমিট্যান্স আসছে, তা বিগত সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২ হাজার ৩৯১ কোটি ২২ লাখ টাকার তুলনায় চলতি অর্থবছরের সংগ্রহ অনেক বেশি শক্তিশালী।

প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন কেবল ডলার সংকট মেটাতেই সাহায্য করছে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। পাচার রোধ এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই ধারা বজায় থাকলে দেশের আমদানি দায় মেটানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।