আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দলের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের ভিন্নমত ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও সাংগঠনিক মধ্যমপন্থা
সামান্তা শারমিন তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মতাদর্শের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এনসিপির মতো একটি নতুন দলে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক। মাত্র ১০ মাসের পথচলায় দলের ‘সাংগঠনিক মধ্যমপন্থা’ বা চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বর্তমান অবস্থাকে ‘ইনার পার্টি স্ট্রাগল’ বা অভ্যন্তরীণ দলীয় সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট ও নৈতিক অবস্থান
নির্বাচনী কৌশল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা ও জোট গঠনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। সামান্তা শারমিন সরাসরি এই জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন:
“যেহেতু আমি এই জোট গঠনের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করি না, তাই এনসিপি-জামায়াত জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কিংবা তাদের কাছ থেকে কোনো সাংগঠনিক বা আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা আমার কাছে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
এই নৈতিক অবস্থানের কারণেই তিনি এবারের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট কেবল একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, কোনো আদর্শিক মিলন নয়। তাই আদর্শিকভাবে জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করা এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সময়ের অপেক্ষা
সামান্তা শারমিন এখনই দল থেকে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের এই সিদ্ধান্ত এনসিপির ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই সিদ্ধান্তের সফলতার ওপর যেমন পার্টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তেমনি তার নিজের রাজনৈতিক গতিপথও এই সিদ্ধান্তের পরিণতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “কোন অবস্থানটি সঠিক ছিল, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 









