০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২,৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল, লড়াইয়ে নামছেন প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সারা দেশে প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিপুল সংখ্যক প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার পরিসংখ্যান

ইসি সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে লড়তে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মোট ৩ হাজার ৪০৭টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ, সংগৃহীত ফরমের বড় একটি অংশই চূড়ান্তভাবে জমা পড়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিভাগীয় অঞ্চলে মনোনয়নের চিত্র

ইসি সারা দেশকে ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে তথ্য প্রকাশ করেছে। অঞ্চলভেদে মনোনয়নপত্র জমার সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • ঢাকা অঞ্চল: ৪১টি আসনে সর্বোচ্চ ৪৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল: যথাক্রমে ৩৬৫টি ও ১৯৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল: যথাক্রমে ২৭৮টি ও ২৬০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল: যথাক্রমে ২৭৬টি ও ১৬৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চল: যথাক্রমে ৩১১টি, ১৪৬টি এবং ১৪২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নির্বাচনী পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন শুরু হচ্ছে যাচাই-বাছাই ও আপিলের প্রক্রিয়া। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলো হলো:

  • মনোনয়নপত্র বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

  • আপিল দায়ের: ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

  • আপিল নিষ্পত্তি: ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

  • প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি ২০২৬।

  • প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। এই প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। পরিশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সারা দেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটও একই দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২,৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল, লড়াইয়ে নামছেন প্রার্থীরা

প্রকাশিত : ১০:১৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সারা দেশে প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিপুল সংখ্যক প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার পরিসংখ্যান

ইসি সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে লড়তে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মোট ৩ হাজার ৪০৭টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ, সংগৃহীত ফরমের বড় একটি অংশই চূড়ান্তভাবে জমা পড়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিভাগীয় অঞ্চলে মনোনয়নের চিত্র

ইসি সারা দেশকে ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে তথ্য প্রকাশ করেছে। অঞ্চলভেদে মনোনয়নপত্র জমার সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • ঢাকা অঞ্চল: ৪১টি আসনে সর্বোচ্চ ৪৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল: যথাক্রমে ৩৬৫টি ও ১৯৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল: যথাক্রমে ২৭৮টি ও ২৬০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল: যথাক্রমে ২৭৬টি ও ১৬৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

  • ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চল: যথাক্রমে ৩১১টি, ১৪৬টি এবং ১৪২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নির্বাচনী পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন শুরু হচ্ছে যাচাই-বাছাই ও আপিলের প্রক্রিয়া। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলো হলো:

  • মনোনয়নপত্র বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

  • আপিল দায়ের: ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

  • আপিল নিষ্পত্তি: ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

  • প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি ২০২৬।

  • প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। এই প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। পরিশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সারা দেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটও একই দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।