০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেবিদ্বারে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক: হাসনাতের জন্য জামায়াত প্রার্থীর আসন ছেড়ে দেওয়ার নেপথ্যে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্য ও ত্যাগের চিত্র ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও জোটগত সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ায় কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম শহীদ।

এক আবেগঘন মুহূর্ত

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গত দেড় বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও নেতাকর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাইফুল ইসলাম শহীদ। তিনি বলেন:

“আমার নেতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, ঘরে না ফিরে মাঠে থেকেছেন। তাদের সে ত্যাগের কথা মনে হলে আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”

তার এই কান্নায় উপস্থিত জামায়াত ও নাগরিক পার্টির অনেক নেতাকর্মীকেও অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্য অনেক বড়।

হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্থন

সাইফুল ইসলাম শহীদ তার কর্মী-সমর্থকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাকে তারা যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন, জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহকেও যেন ঠিক সেভাবেই আপন করে নেওয়া হয়। তিনি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে হাসনাত আব্দুল্লাহর পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

জামায়াত নেতার এই বিশাল ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন:

“শহীদ ভাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি জননন্দিত একজন নেতা। জোট ও ইনসাফের প্রশ্নে তিনি যে উদারতা দেখিয়েছেন, আমরা তার এই ত্যাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখব।”

হাসনাত আরও উল্লেখ করেন যে, এই ত্যাগ কেবল একটি আসন ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং এটি দেশের প্রতি তাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ।


ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য:

  • জোটের শক্তি: এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন মোকাবিলা করতে বদ্ধপরিকর।

  • ত্যাগ ও শিষ্টাচার: দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগের এক নতুন সংস্কৃতি তুলে ধরে।

  • বিজয় সুনিশ্চিত করার কৌশল: দেবিদ্বারে দুই জনপ্রিয় নেতার এক হওয়া ওই আসনে জোটের প্রার্থীর জয়ের পথকে অনেক বেশি প্রশস্ত করল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক: হাসনাতের জন্য জামায়াত প্রার্থীর আসন ছেড়ে দেওয়ার নেপথ্যে

প্রকাশিত : ১০:৩২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্য ও ত্যাগের চিত্র ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও জোটগত সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ায় কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম শহীদ।

এক আবেগঘন মুহূর্ত

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গত দেড় বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও নেতাকর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাইফুল ইসলাম শহীদ। তিনি বলেন:

“আমার নেতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, ঘরে না ফিরে মাঠে থেকেছেন। তাদের সে ত্যাগের কথা মনে হলে আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”

তার এই কান্নায় উপস্থিত জামায়াত ও নাগরিক পার্টির অনেক নেতাকর্মীকেও অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্য অনেক বড়।

হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্থন

সাইফুল ইসলাম শহীদ তার কর্মী-সমর্থকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাকে তারা যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন, জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহকেও যেন ঠিক সেভাবেই আপন করে নেওয়া হয়। তিনি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে হাসনাত আব্দুল্লাহর পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

জামায়াত নেতার এই বিশাল ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন:

“শহীদ ভাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি জননন্দিত একজন নেতা। জোট ও ইনসাফের প্রশ্নে তিনি যে উদারতা দেখিয়েছেন, আমরা তার এই ত্যাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখব।”

হাসনাত আরও উল্লেখ করেন যে, এই ত্যাগ কেবল একটি আসন ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং এটি দেশের প্রতি তাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ।


ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য:

  • জোটের শক্তি: এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন মোকাবিলা করতে বদ্ধপরিকর।

  • ত্যাগ ও শিষ্টাচার: দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগের এক নতুন সংস্কৃতি তুলে ধরে।

  • বিজয় সুনিশ্চিত করার কৌশল: দেবিদ্বারে দুই জনপ্রিয় নেতার এক হওয়া ওই আসনে জোটের প্রার্থীর জয়ের পথকে অনেক বেশি প্রশস্ত করল।