আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের ঘোষিত ২৩৭টি আসনের মনোনয়ন তালিকায় এবার ‘এক পরিবার, এক প্রার্থী’ নীতির বাস্তবায়ন করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
🌟 মূল পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন
- নীতির কঠোর প্রয়োগ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান বা কেন্দ্রীয় নেতাদের পরিবারে যেখানে একাধিক সদস্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, সেখানে একজনকেই দলীয় প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
- পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভিন্ন বার্তা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সংস্কৃতিতে বিএনপির এই পদক্ষেপ একটি নতুন এবং ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
- মনোনয়নপ্রাপ্ত কিছু প্রভাবশালী পরিবার:
- মির্জা আব্বাস–আফরোজা আব্বাস: মনোনয়ন পেয়েছেন মির্জা আব্বাস।
- গয়েশ্বর রায়–নিপুণ রায় চৌধুরী: মনোনয়ন পেয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
- খায়রুল কবির খোকন–শিরীন সুলতানা: একজন মনোনয়ন পেয়েছেন।
- সালাহউদ্দিন আহমদ–হাসিনা আহমদ: সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।
- আব্দুস সালাম পিন্টু–সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুস সালাম পিন্টু।
- মীর নাসির–মীর হেলাল: মীর নাসিরের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন ছেলে মীর হেলাল উদ্দিন।
📌 জিয়া পরিবারের ব্যতিক্রম ও অনিশ্চয়তা
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, কেবল জিয়া পরিবারেই ব্যতিক্রম দেখা গেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবার থেকে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (ফেনী–১, বগুড়া–৭ ও দিনাজপুর–৩) এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বগুড়া–৬) মনোনয়ন পেয়েছেন।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নোট: বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার শারীরিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
⚖️ বিশ্লেষক ও নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিন্নাত আরা নাজনীন মনে করেন, এই নীতি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে এবং পরিবারতন্ত্রের স্থবিরতা ভাঙবে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, যেহেতু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও জিয়া পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই এই নীতির গভীরতা ও কার্যকারিতা প্রমাণ হওয়া বাকি। তৃণমূলের কেউ কেউ একে প্রভাবশালী পরিবারের আধিপত্য কমার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ত্যাগী ও আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিবারের সদস্যদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে বেশিরভাগই এই সিদ্ধান্তকে দলের পুনর্গঠনে ইতিবাচক বলে মত দিয়েছেন।
বিএনপি সূত্রমতে, এই নীতি কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, এটি যোগ্যতা, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থিতা নির্ধারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক সংস্কারের অংশ। এর লক্ষ্য হলো “পরিবারতন্ত্র বনাম ত্যাগী কর্মী” দ্বন্দ্বে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









