০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে আচরণবিধি মানার আহ্বান সিইসি’র

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আচরণবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।রবিবার (১৬ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের দ্বিতীয় দিনের সূচনা বক্তব্যে সিইসি এই মন্তব্য করেন। সংলাপে সিইসি ছাড়াও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় দিনের সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলসমূহ

দ্বিতীয় দিনের সংলাপে অংশ নিতে যেসকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন ভবনে এসেছিলেন, তারা হলেন:

  • গণফোরাম

  • গণফ্রন্ট

  • ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ

  • ইসলামী ঐক্যজোট

  • বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)

  • বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি

কমিশনের জটিল কাজ ও সাফল্যের বিবরণ

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সম্পন্ন করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনকে বেশ কয়েকটি বড় কাজে হাত দিতে হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিল ভোটার তালিকা হালনাগাদ।

তিনি উল্লেখ করেন:

  • ভোটার তালিকা হালনাগাদ: ৭৭ হাজার মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গত কয়েক মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • মৃত ভোটার বাদ: এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অতীতে এই ভোটাররা তালিকায় থেকে যাওয়ায় তাদের নামে ভোট পড়ার ঝুঁকি ছিল।

  • নতুন ভোটার শনাক্ত: একই সঙ্গে ৪০ লাখের বেশি নতুন ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে, যারা ভোটার হওয়ার বয়সে উপনীত হলেও পূর্বে তালিকায় নাম ছিল না।

নতুন ভোটদানের ব্যবস্থা

সিইসি ভোটের কার্যক্রমে নিয়োজিতদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে কমিশনের নতুন উদ্যোগের কথাও জানান:

  • দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ভোট: প্রতি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ ভোটগ্রহণ কাজে দায়িত্ব পালন করেন, যারা এতদিন নিজেরা ভোট দিতে পারতেন না। এবার তাদের জন্যও ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • অন্যান্যদের জন্য নতুন ব্যবস্থা: এছাড়া নিজ দায়িত্বের বাইরে কর্মস্থলে থাকা সরকারি চাকরিজীবী ও কারাবন্দিদের জন্যও ভোটদানের নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নির্বাচনী সংস্কার ও রাজনৈতিক সহযোগিতা

সিইসি বলেন, নির্বাচনী সংস্কার কমিশন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ৮০টির বেশি সংলাপ করেছে। এই সংলাপগুলো নির্বাচন কমিশনকে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ওই সংস্কারের কিছু সুপারিশ যৌথভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা রয়েছে।সবশেষে, এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করে বলেন যে, আচরণবিধি সঠিকভাবে পালন করা হলে নির্বাচন সুন্দর হবে। তিনি দলগুলোকে নিজেদের কর্মীদের আচরণবিধি সম্পর্কে ব্রিফ করার অনুরোধ জানান, কারণ নির্বাচন কমিশন একা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে না; এর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহযোগিতা অপরিহার্য।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে আচরণবিধি মানার আহ্বান সিইসি’র

প্রকাশিত : ০১:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আচরণবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।রবিবার (১৬ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের দ্বিতীয় দিনের সূচনা বক্তব্যে সিইসি এই মন্তব্য করেন। সংলাপে সিইসি ছাড়াও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় দিনের সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলসমূহ

দ্বিতীয় দিনের সংলাপে অংশ নিতে যেসকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন ভবনে এসেছিলেন, তারা হলেন:

  • গণফোরাম

  • গণফ্রন্ট

  • ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ

  • ইসলামী ঐক্যজোট

  • বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)

  • বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি

কমিশনের জটিল কাজ ও সাফল্যের বিবরণ

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সম্পন্ন করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনকে বেশ কয়েকটি বড় কাজে হাত দিতে হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিল ভোটার তালিকা হালনাগাদ।

তিনি উল্লেখ করেন:

  • ভোটার তালিকা হালনাগাদ: ৭৭ হাজার মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গত কয়েক মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • মৃত ভোটার বাদ: এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অতীতে এই ভোটাররা তালিকায় থেকে যাওয়ায় তাদের নামে ভোট পড়ার ঝুঁকি ছিল।

  • নতুন ভোটার শনাক্ত: একই সঙ্গে ৪০ লাখের বেশি নতুন ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে, যারা ভোটার হওয়ার বয়সে উপনীত হলেও পূর্বে তালিকায় নাম ছিল না।

নতুন ভোটদানের ব্যবস্থা

সিইসি ভোটের কার্যক্রমে নিয়োজিতদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে কমিশনের নতুন উদ্যোগের কথাও জানান:

  • দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ভোট: প্রতি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ ভোটগ্রহণ কাজে দায়িত্ব পালন করেন, যারা এতদিন নিজেরা ভোট দিতে পারতেন না। এবার তাদের জন্যও ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • অন্যান্যদের জন্য নতুন ব্যবস্থা: এছাড়া নিজ দায়িত্বের বাইরে কর্মস্থলে থাকা সরকারি চাকরিজীবী ও কারাবন্দিদের জন্যও ভোটদানের নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নির্বাচনী সংস্কার ও রাজনৈতিক সহযোগিতা

সিইসি বলেন, নির্বাচনী সংস্কার কমিশন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ৮০টির বেশি সংলাপ করেছে। এই সংলাপগুলো নির্বাচন কমিশনকে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ওই সংস্কারের কিছু সুপারিশ যৌথভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা রয়েছে।সবশেষে, এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করে বলেন যে, আচরণবিধি সঠিকভাবে পালন করা হলে নির্বাচন সুন্দর হবে। তিনি দলগুলোকে নিজেদের কর্মীদের আচরণবিধি সম্পর্কে ব্রিফ করার অনুরোধ জানান, কারণ নির্বাচন কমিশন একা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে না; এর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহযোগিতা অপরিহার্য।