০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

আসন বণ্টন চূড়ান্তের পথে বিএনপি, ৬৩ আসনে শীঘ্রই আসছে ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করলেও, কৌশলগত কারণে ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছিল। পরবর্তীতে মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার মনোনয়নও স্থগিত করা হয়। বর্তমানে এই ফাঁকা আসনগুলো নিয়ে জোট শরিকদের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জোট শরিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোট শরিকরা তাদের যে প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে, বিএনপি সেটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। এই শর্টলিস্টের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক ক্ষমতা, বিজয়ের সম্ভাবনা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যা হলো সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গত ৪ নভেম্বর আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট জারি করা হয়েছে, যেখানে জোট শরিকদের নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই এই ফাঁকা থাকা ৬৩ আসনে দলীয় ও জোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। তপশিল ঘোষণার আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে দলটি দ্রুত এগোচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই জোটের প্রধান নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে জোট ও বিএনপির প্রার্থী একই সঙ্গে অথবা ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন ও জোটের অনুরোধ

ঘোষিত ২৩৭টি আসনের কয়েকটিতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব বা বিরোধ দেখা দেওয়ায় সেই সমস্যা সমাধানেও বিএনপি উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের এই বিরোধ মিটিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে, মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ঢাকায় ডেকে এনে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, গত শুক্রবার কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রার্থী আবুল কালাম এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার মধ্যেকার বিরোধ মিটিয়ে সমঝোতা করিয়ে দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মিত্রদের জন্য যেসব আসন ছাড়া হবে, সেগুলোর আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি আরপিও পুনরায় সংশোধিত না হয়, তাহলে নিবন্ধিত শরিকদের নিজ দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মাসের মধ্যেই সব মনোনয়ন ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এদিকে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির সাম্প্রতিক বৈঠকে মিত্ররা দ্রুত মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমে পড়েছে, তাই শরিকদের ক্ষেত্রে আর দেরি করা উচিত হবে না। বৈঠকে সংশোধিত আরপিওর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহত্তর জোট গঠনের প্রচেষ্টা ও আসন ছাড়ার পরিকল্পনা

ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররা ছাড়াও বিএনপি জামায়াতের বাইরের ইসলামী এবং বামপন্থি কয়েকটি দলকে নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি দলের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে এবং সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী তাদের দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি শরিকদের ৫৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২৫ থেকে ৩০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জামায়াতকে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করায়, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শরিকদের আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি আরও সতর্ক। জোটের আকার বড় হলে আসন সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে প্রধান লক্ষ্য থাকবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

আসন বণ্টন চূড়ান্তের পথে বিএনপি, ৬৩ আসনে শীঘ্রই আসছে ঘোষণা

প্রকাশিত : ০১:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করলেও, কৌশলগত কারণে ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছিল। পরবর্তীতে মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার মনোনয়নও স্থগিত করা হয়। বর্তমানে এই ফাঁকা আসনগুলো নিয়ে জোট শরিকদের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জোট শরিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোট শরিকরা তাদের যে প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে, বিএনপি সেটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। এই শর্টলিস্টের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক ক্ষমতা, বিজয়ের সম্ভাবনা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যা হলো সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গত ৪ নভেম্বর আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট জারি করা হয়েছে, যেখানে জোট শরিকদের নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই এই ফাঁকা থাকা ৬৩ আসনে দলীয় ও জোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। তপশিল ঘোষণার আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে দলটি দ্রুত এগোচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই জোটের প্রধান নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে জোট ও বিএনপির প্রার্থী একই সঙ্গে অথবা ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন ও জোটের অনুরোধ

ঘোষিত ২৩৭টি আসনের কয়েকটিতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব বা বিরোধ দেখা দেওয়ায় সেই সমস্যা সমাধানেও বিএনপি উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের এই বিরোধ মিটিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে, মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ঢাকায় ডেকে এনে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, গত শুক্রবার কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রার্থী আবুল কালাম এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার মধ্যেকার বিরোধ মিটিয়ে সমঝোতা করিয়ে দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মিত্রদের জন্য যেসব আসন ছাড়া হবে, সেগুলোর আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি আরপিও পুনরায় সংশোধিত না হয়, তাহলে নিবন্ধিত শরিকদের নিজ দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মাসের মধ্যেই সব মনোনয়ন ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এদিকে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির সাম্প্রতিক বৈঠকে মিত্ররা দ্রুত মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমে পড়েছে, তাই শরিকদের ক্ষেত্রে আর দেরি করা উচিত হবে না। বৈঠকে সংশোধিত আরপিওর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহত্তর জোট গঠনের প্রচেষ্টা ও আসন ছাড়ার পরিকল্পনা

ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররা ছাড়াও বিএনপি জামায়াতের বাইরের ইসলামী এবং বামপন্থি কয়েকটি দলকে নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি দলের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে এবং সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী তাদের দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি শরিকদের ৫৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২৫ থেকে ৩০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জামায়াতকে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করায়, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শরিকদের আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি আরও সতর্ক। জোটের আকার বড় হলে আসন সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে প্রধান লক্ষ্য থাকবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া।