০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমান: নির্বাসন, আইনি মুক্তি ও নতুন রাজনৈতিক পরিণতি

প্রবাদ অনুযায়ী, রাজনীতিতে সময় সবকিছুর উত্তর দেয়। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের সব শক্তি তাকে রাজনৈতিকভাবে ‘মাইনাস’ করতে চাইলেও, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, নির্যাতন এবং আইনি যুদ্ধ শেষে তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে বিএনপির একক নেতৃত্বের শীর্ষে। বিতর্কের পাহাড় পেরিয়ে ৬০ বছরে পা রাখা এই নেতা এখন তার বক্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্ত দিয়ে নিজেকে জাতীয় নেতার সংজ্ঞায় পুনর্নির্মাণ করছেন।

১. অতীত বিতর্ক ও ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা (২০০১-২০০৮)

  • ১/১১ এর লক্ষ্যবস্তু: ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘মাইনাস টু’ (বিরাজনীতিকরণ) ফর্মুলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান।

  • হাওয়া ভবন বিতর্ক: ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তার রাজনৈতিক কার্যালয় ‘হাওয়া ভবন’ কে তৎকালীন বিরোধী দল ‘ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র’ বা প্যারালাল গভর্নমেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত করত।

  • করাপশন ও ভায়োলেন্সের ইমেজ: রাষ্ট্রীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ বাণিজ্য, কথিত ‘টেন পারসেন্ট কমিশন’ এবং ‘খাম্বা দুর্নীতি’-র অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমানসে তারেক রহমান সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করা হয়েছিল।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়া। এটি মুফতি হান্নানের জোরপূর্বক আদায় করা জবানবন্দির ভিত্তিতে করা হয়েছিল বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • মুচলেকা তত্ত্বের অসারতা: ২০০৮ সালে জামিনে লন্ডনে গেলেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর মুচলেকা দিয়ে দেশ ছাড়ার গুঞ্জনটি গত ১৭ বছর ধরে দলের হাল ধরে রাখার মাধ্যমে অসার প্রমাণিত হয়েছে।


২. ২০২৪: আইনি বিজয় ও ইমেজ পরিবর্তন

  • মামলা থেকে বেকসুর খালাস: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা সবকয়টি মামলা থেকে উচ্চ আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, ২১ আগস্টের মতো জঘন্য ঘটনায় তারেক রহমানকে কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছিল। এই রায় তার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্মিত কলঙ্ক’ মোচনে আইনি ভিত্তি দিয়েছে।

  • নেতৃত্বে গুণগত পরিবর্তন: ২০১৫ সাল থেকে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তার মধ্যে ধীরতা ও রাজনৈতিক পরিপক্কতার ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সমালোচকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।


৩. গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কৌশল ও নেতৃত্ব (৫ আগস্টের পর)

  • ছাত্র-জনতার প্রতি বিনয়: তিনি গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো রাজনৈতিক দলকে না দিয়ে বারবার শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাকে দিয়েছেন, যা তার উদারতার পরিচায়ক। তিনি এই পরিবর্তনকে ক্ষমতার হাতবদল নয়, রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান: শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে নিষেধ করেছেন।

  • ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও শৃঙ্খলা: সরকারের পরিবর্তনের পর প্রতিহিংসা ও দখলদারিত্বের নেতিবাচক সংস্কৃতি ঠেকাতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারাদেশ এবং কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দলের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করেছেন।

  • জাতীয় ঐক্যের দর্শন: তিনি ‘জাতীয় ঐক্য’কে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি উগ্রবাদ বা সংকীর্ণতা নয়, ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

  • আধুনিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি স্বচ্ছ, বৈজ্ঞানিক ও কাঠামোগত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। ‘লবিং ও টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন’ প্রথা বাতিল করে যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য পাঁচ স্তরের নিবিড় পর্যবেক্ষণ বা ‘ছাঁকনি’ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন।

  • কূটনৈতিক প্রজ্ঞা: ভারত প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন—তিনি পানির হিস্যা এবং সীমান্তে আর কোনো ফেলানীকে দেখতে চান না।


৪. রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা ও প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন

  • ভিশনারি পরিকল্পনা: তিনি ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছেন, যার মূল দর্শন জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক মুক্তি। এই রূপরেখায় ‘রেইনবো নেশন’ গঠন, ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কার্ড’ এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

  • ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার: তারেক রহমানের রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন চেতনার সংমিশ্রণ ঘটেছে। তবে তিনি পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক পণ্যে রূপান্তর না করে, রাষ্ট্র সংস্কার ও আইনের শাসনের কথা বলে শেখ হাসিনার আবেগনির্ভর রাজনীতির চেয়ে নিজেকে গুণগতভাবে ভিন্ন ও আদর্শিক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।

  • ৬০ বছর: গোল্ডেন এজ: ৬০ বছর বয়সকে লেখক উইনস্টন চার্চিল বা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বনেতাদের প্রজ্ঞা ও অর্জনের ‘স্বর্ণালী সময়’ (গোল্ডেন এজ) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

  • জন্মদিন উৎসব বর্জন: তিনি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জন্মদিনে কেক কাটা বা কোনো উৎসবমুখর কর্মসূচি পালন না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা: আইনি বাধার প্রাচীর সরলেও তিনি সম্পূর্ণ আইনি বৈধতা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে বীরের বেশে দ্রুতই দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের জন্য এখন পুরো বাংলাদেশ প্রহর গুনছে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

তারেক রহমান: নির্বাসন, আইনি মুক্তি ও নতুন রাজনৈতিক পরিণতি

প্রকাশিত : ০৬:১৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

প্রবাদ অনুযায়ী, রাজনীতিতে সময় সবকিছুর উত্তর দেয়। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের সব শক্তি তাকে রাজনৈতিকভাবে ‘মাইনাস’ করতে চাইলেও, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, নির্যাতন এবং আইনি যুদ্ধ শেষে তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে বিএনপির একক নেতৃত্বের শীর্ষে। বিতর্কের পাহাড় পেরিয়ে ৬০ বছরে পা রাখা এই নেতা এখন তার বক্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্ত দিয়ে নিজেকে জাতীয় নেতার সংজ্ঞায় পুনর্নির্মাণ করছেন।

১. অতীত বিতর্ক ও ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা (২০০১-২০০৮)

  • ১/১১ এর লক্ষ্যবস্তু: ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘মাইনাস টু’ (বিরাজনীতিকরণ) ফর্মুলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান।

  • হাওয়া ভবন বিতর্ক: ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তার রাজনৈতিক কার্যালয় ‘হাওয়া ভবন’ কে তৎকালীন বিরোধী দল ‘ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র’ বা প্যারালাল গভর্নমেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত করত।

  • করাপশন ও ভায়োলেন্সের ইমেজ: রাষ্ট্রীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ বাণিজ্য, কথিত ‘টেন পারসেন্ট কমিশন’ এবং ‘খাম্বা দুর্নীতি’-র অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমানসে তারেক রহমান সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করা হয়েছিল।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়া। এটি মুফতি হান্নানের জোরপূর্বক আদায় করা জবানবন্দির ভিত্তিতে করা হয়েছিল বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • মুচলেকা তত্ত্বের অসারতা: ২০০৮ সালে জামিনে লন্ডনে গেলেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর মুচলেকা দিয়ে দেশ ছাড়ার গুঞ্জনটি গত ১৭ বছর ধরে দলের হাল ধরে রাখার মাধ্যমে অসার প্রমাণিত হয়েছে।


২. ২০২৪: আইনি বিজয় ও ইমেজ পরিবর্তন

  • মামলা থেকে বেকসুর খালাস: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা সবকয়টি মামলা থেকে উচ্চ আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, ২১ আগস্টের মতো জঘন্য ঘটনায় তারেক রহমানকে কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছিল। এই রায় তার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্মিত কলঙ্ক’ মোচনে আইনি ভিত্তি দিয়েছে।

  • নেতৃত্বে গুণগত পরিবর্তন: ২০১৫ সাল থেকে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তার মধ্যে ধীরতা ও রাজনৈতিক পরিপক্কতার ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সমালোচকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।


৩. গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কৌশল ও নেতৃত্ব (৫ আগস্টের পর)

  • ছাত্র-জনতার প্রতি বিনয়: তিনি গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো রাজনৈতিক দলকে না দিয়ে বারবার শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাকে দিয়েছেন, যা তার উদারতার পরিচায়ক। তিনি এই পরিবর্তনকে ক্ষমতার হাতবদল নয়, রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান: শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে নিষেধ করেছেন।

  • ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও শৃঙ্খলা: সরকারের পরিবর্তনের পর প্রতিহিংসা ও দখলদারিত্বের নেতিবাচক সংস্কৃতি ঠেকাতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারাদেশ এবং কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দলের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করেছেন।

  • জাতীয় ঐক্যের দর্শন: তিনি ‘জাতীয় ঐক্য’কে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি উগ্রবাদ বা সংকীর্ণতা নয়, ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

  • আধুনিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি স্বচ্ছ, বৈজ্ঞানিক ও কাঠামোগত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। ‘লবিং ও টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন’ প্রথা বাতিল করে যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য পাঁচ স্তরের নিবিড় পর্যবেক্ষণ বা ‘ছাঁকনি’ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন।

  • কূটনৈতিক প্রজ্ঞা: ভারত প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন—তিনি পানির হিস্যা এবং সীমান্তে আর কোনো ফেলানীকে দেখতে চান না।


৪. রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা ও প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন

  • ভিশনারি পরিকল্পনা: তিনি ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছেন, যার মূল দর্শন জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক মুক্তি। এই রূপরেখায় ‘রেইনবো নেশন’ গঠন, ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কার্ড’ এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

  • ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার: তারেক রহমানের রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন চেতনার সংমিশ্রণ ঘটেছে। তবে তিনি পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক পণ্যে রূপান্তর না করে, রাষ্ট্র সংস্কার ও আইনের শাসনের কথা বলে শেখ হাসিনার আবেগনির্ভর রাজনীতির চেয়ে নিজেকে গুণগতভাবে ভিন্ন ও আদর্শিক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।

  • ৬০ বছর: গোল্ডেন এজ: ৬০ বছর বয়সকে লেখক উইনস্টন চার্চিল বা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বনেতাদের প্রজ্ঞা ও অর্জনের ‘স্বর্ণালী সময়’ (গোল্ডেন এজ) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

  • জন্মদিন উৎসব বর্জন: তিনি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জন্মদিনে কেক কাটা বা কোনো উৎসবমুখর কর্মসূচি পালন না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা: আইনি বাধার প্রাচীর সরলেও তিনি সম্পূর্ণ আইনি বৈধতা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে বীরের বেশে দ্রুতই দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের জন্য এখন পুরো বাংলাদেশ প্রহর গুনছে।