০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

পূর্বাচল প্লট জালিয়াতি মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের (প্রতিটি মামলায় ৭ বছর করে) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এজলাসে এসে এই রায় ঘোষণা করেন।

🏛️ রায় ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকা

আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য এবং সরকারের উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন:

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দণ্ডের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা
শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ২১ বছরের কারাদণ্ড (৩টি মামলায় ৭ বছর করে) ৩টি
সজীব ওয়াজেদ জয় (ছেলে) ৫ বছরের কারাদণ্ড ১টি
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (মেয়ে) ৫ বছরের কারাদণ্ড ১টি
অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড (তালিকায় ২৩ জনের মধ্যে অন্যান্য আসামিরা অন্তর্ভুক্ত)
  • মোট আসামি: মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ মোট ২৩ জন আসামি ছিলেন।

  • পলাতক: শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ মোট ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। একমাত্র রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কারাগারে থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

⚖️ অভিযোগের মূল দিক

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ:

    • তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ‘গরিব’ দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেন।

    • আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এবং আবেদন ছাড়াই শেখ হাসিনাকে প্লট দেওয়া হয়েছিল।

    • শেখ হাসিনা পরোক্ষভাবে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

  • জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

    • সজীব ওয়াজেদ জয় হলফনামায় আবাসন সুবিধা থাকার তথ্য গোপন করে মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।

    • সায়মা ওয়াজেদ পুতুল রাজউকে কোনো আবেদন না করেই মায়ের কাছে আবদার করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।

  • অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নিজে ও অন্যকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি নথি বিনষ্ট বা গায়েব করেছেন।

📅 মামলার সময়রেখা

তারিখ ঘটনা
জানুয়ারি (চলতি বছর) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক পৃথক ৬টি মামলা করে।
জানুয়ারি-মার্চ (চলতি বছর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৩১ জুলাই শেখ হাসিনাসহ এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
২৩ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। (রাষ্ট্রপক্ষ যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেছিল)।
২৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন।

🔍 অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য

  • মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড: উল্লেখ্য, এই দুর্নীতির মামলার রায়ের আগেই ‘জুলাই আন্দোলন’ দমনের চেষ্টার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।

  • অন্যান্য সাবেক সরকারপ্রধানদের সাজা: এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদেরও দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছিল।

এই রায়টি বাংলাদেশের বিচারিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুতির পরে সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করল।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

পূর্বাচল প্লট জালিয়াতি মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত : ০১:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের (প্রতিটি মামলায় ৭ বছর করে) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এজলাসে এসে এই রায় ঘোষণা করেন।

🏛️ রায় ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকা

আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য এবং সরকারের উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন:

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দণ্ডের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা
শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ২১ বছরের কারাদণ্ড (৩টি মামলায় ৭ বছর করে) ৩টি
সজীব ওয়াজেদ জয় (ছেলে) ৫ বছরের কারাদণ্ড ১টি
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (মেয়ে) ৫ বছরের কারাদণ্ড ১টি
অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড (তালিকায় ২৩ জনের মধ্যে অন্যান্য আসামিরা অন্তর্ভুক্ত)
  • মোট আসামি: মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ মোট ২৩ জন আসামি ছিলেন।

  • পলাতক: শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ মোট ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। একমাত্র রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কারাগারে থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

⚖️ অভিযোগের মূল দিক

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ:

    • তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ‘গরিব’ দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেন।

    • আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এবং আবেদন ছাড়াই শেখ হাসিনাকে প্লট দেওয়া হয়েছিল।

    • শেখ হাসিনা পরোক্ষভাবে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

  • জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

    • সজীব ওয়াজেদ জয় হলফনামায় আবাসন সুবিধা থাকার তথ্য গোপন করে মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।

    • সায়মা ওয়াজেদ পুতুল রাজউকে কোনো আবেদন না করেই মায়ের কাছে আবদার করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।

  • অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নিজে ও অন্যকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি নথি বিনষ্ট বা গায়েব করেছেন।

📅 মামলার সময়রেখা

তারিখ ঘটনা
জানুয়ারি (চলতি বছর) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক পৃথক ৬টি মামলা করে।
জানুয়ারি-মার্চ (চলতি বছর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৩১ জুলাই শেখ হাসিনাসহ এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
২৩ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। (রাষ্ট্রপক্ষ যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেছিল)।
২৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন।

🔍 অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য

  • মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড: উল্লেখ্য, এই দুর্নীতির মামলার রায়ের আগেই ‘জুলাই আন্দোলন’ দমনের চেষ্টার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।

  • অন্যান্য সাবেক সরকারপ্রধানদের সাজা: এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদেরও দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছিল।

এই রায়টি বাংলাদেশের বিচারিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুতির পরে সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করল।