০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া: রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ব্যবস্থাপনা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সরকার রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে তাঁর শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জানাজা, দাফন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিস্তারিত পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে বেগম জিয়ার মরদেহ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হবে। হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট) নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষ যাতে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, সেজন্য রাস্তার দুই পাশে ব্যবস্থা থাকবে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাদ জোহর তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে।

দাফন প্রক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও দাফন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার খাতিরে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। প্রেস সচিব জানিয়েছেন, দাফনের স্থানটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে কেবল নির্ধারিত বা নির্বাচিত ব্যক্তিরাই উপস্থিত থাকতে পারবেন। কারা উপস্থিত থাকবেন, সেই তালিকা বিএনপি বা মরহুমার দল থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। দাফনের সময় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকবে।

শোক বই ও রাষ্ট্রীয় সম্মান বেগম জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে শোক বই খোলা হবে। এছাড়া দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয়েও শোক বই খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলীয় কার্যালয় গুলশানে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দল থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আইন ও তথ্য উপদেষ্টাসহ সরকারের প্রায় ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

জনপ্রিয়

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া: রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ব্যবস্থাপনা

প্রকাশিত : ০৭:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সরকার রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে তাঁর শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জানাজা, দাফন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিস্তারিত পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে বেগম জিয়ার মরদেহ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হবে। হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট) নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষ যাতে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, সেজন্য রাস্তার দুই পাশে ব্যবস্থা থাকবে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাদ জোহর তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে।

দাফন প্রক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও দাফন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার খাতিরে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। প্রেস সচিব জানিয়েছেন, দাফনের স্থানটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে কেবল নির্ধারিত বা নির্বাচিত ব্যক্তিরাই উপস্থিত থাকতে পারবেন। কারা উপস্থিত থাকবেন, সেই তালিকা বিএনপি বা মরহুমার দল থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। দাফনের সময় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকবে।

শোক বই ও রাষ্ট্রীয় সম্মান বেগম জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে শোক বই খোলা হবে। এছাড়া দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয়েও শোক বই খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলীয় কার্যালয় গুলশানে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দল থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আইন ও তথ্য উপদেষ্টাসহ সরকারের প্রায় ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।