০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়বেলায় বিশ্বনেতা ও বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গভীর শোক প্রকাশ করছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং দেশের বিশিষ্টজনরা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবই খোলা হয়।

কূটনীতিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা শোকবই খোলার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একে একে গুলশান কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। প্রথমেই শোক স্বাক্ষর করেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এরপর ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উপস্থিত হয়ে তাঁর শোকবাণী লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইরান, কাতার, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেনসহ প্রায় ২৮টি দেশের কূটনীতিকরা সশরীরে এসে শ্রদ্ধা জানান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাঁর জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করবেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন মতাদর্শের নেতারাও এই শোকাতুর সময়ে একাত্ম হয়েছেন। রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মাজহার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদসহ সামরিক ও বেসামরিক পেশাজীবীরাও সেখানে উপস্থিত হন। এই কার্যক্রমটি সমন্বয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যেমন—হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ এবং সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিরলস কাজ করছেন।

শেষ বিদায়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) বাদ জোহর (দুপুর ২টা) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে তাঁকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিদায়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে ঢাকায় ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। দাফনের স্থানটি সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে কেবল পরিবারের সদস্য ও দলের নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গই উপস্থিত থাকতে পারবেন।

শোকবইয়ে স্বাক্ষর কার্যক্রম আগামী ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে যাতে সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনরা তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রাখতে পারেন।

জনপ্রিয়

বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়বেলায় বিশ্বনেতা ও বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা

প্রকাশিত : ০৮:০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গভীর শোক প্রকাশ করছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং দেশের বিশিষ্টজনরা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবই খোলা হয়।

কূটনীতিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা শোকবই খোলার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একে একে গুলশান কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। প্রথমেই শোক স্বাক্ষর করেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এরপর ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উপস্থিত হয়ে তাঁর শোকবাণী লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইরান, কাতার, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেনসহ প্রায় ২৮টি দেশের কূটনীতিকরা সশরীরে এসে শ্রদ্ধা জানান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাঁর জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করবেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন মতাদর্শের নেতারাও এই শোকাতুর সময়ে একাত্ম হয়েছেন। রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মাজহার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদসহ সামরিক ও বেসামরিক পেশাজীবীরাও সেখানে উপস্থিত হন। এই কার্যক্রমটি সমন্বয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যেমন—হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ এবং সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিরলস কাজ করছেন।

শেষ বিদায়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) বাদ জোহর (দুপুর ২টা) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে তাঁকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিদায়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে ঢাকায় ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। দাফনের স্থানটি সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে কেবল পরিবারের সদস্য ও দলের নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গই উপস্থিত থাকতে পারবেন।

শোকবইয়ে স্বাক্ষর কার্যক্রম আগামী ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে যাতে সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনরা তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রাখতে পারেন।