০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৮: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল কার্যত চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর এই নতুন আগ্রাসনের মূল কারণ হলো দক্ষিণ রাফাহ সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা, যেখানে এক সেনা আহত হয়েছিলেন। এর পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় ব্যাপক পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন।

হামাসের প্রতিক্রিয়া ও জিম্মি পরিস্থিতি

হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।কাসাম ব্রিগেডস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর এই আগ্রাসন শান্তিচুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’। হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে তারা আপাতত নিখোঁজ এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখছে। তারা সতর্ক করেছে যে ইসরায়েল বড় ধরনের উস্কানি দিলে গাজার ভেতরে মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাকি ১৩ জন জিম্মির মরদেহ উদ্ধারও বিলম্বিত হতে পারে। হামাস এই রাফাহ সীমান্তে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে তারা এখনো যুদ্ধবিরতির সব শর্ত মেনে চলছে।

হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আলজাজিরাকে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। উত্তর গাজার সাবরা পাড়ায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় চারজন এবং দক্ষিণ খান ইউনিসে আরও পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এছাড়া রাফাহ, দেইর আল-বালাহ ও গাজা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের পাশেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজার আকাশে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, গাজায় হামাস বা অন্য কেউ একজন ইসরায়েলি সৈন্যের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েল নিশ্চয়ই জবাব দেবে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সামগ্রিকভাবে শান্তি টিকে থাকবে।

নতুন করে এই সহিংসতা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা বলছেন, এই হামলা তাদের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলছে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৮: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০২:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল কার্যত চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর এই নতুন আগ্রাসনের মূল কারণ হলো দক্ষিণ রাফাহ সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা, যেখানে এক সেনা আহত হয়েছিলেন। এর পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় ব্যাপক পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন।

হামাসের প্রতিক্রিয়া ও জিম্মি পরিস্থিতি

হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।কাসাম ব্রিগেডস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর এই আগ্রাসন শান্তিচুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’। হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে তারা আপাতত নিখোঁজ এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখছে। তারা সতর্ক করেছে যে ইসরায়েল বড় ধরনের উস্কানি দিলে গাজার ভেতরে মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাকি ১৩ জন জিম্মির মরদেহ উদ্ধারও বিলম্বিত হতে পারে। হামাস এই রাফাহ সীমান্তে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে তারা এখনো যুদ্ধবিরতির সব শর্ত মেনে চলছে।

হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আলজাজিরাকে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। উত্তর গাজার সাবরা পাড়ায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় চারজন এবং দক্ষিণ খান ইউনিসে আরও পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এছাড়া রাফাহ, দেইর আল-বালাহ ও গাজা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের পাশেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজার আকাশে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, গাজায় হামাস বা অন্য কেউ একজন ইসরায়েলি সৈন্যের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েল নিশ্চয়ই জবাব দেবে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সামগ্রিকভাবে শান্তি টিকে থাকবে।

নতুন করে এই সহিংসতা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা বলছেন, এই হামলা তাদের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলছে।