০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
গণভোট নিয়ে গ্যাঞ্জামে বিএনপি কোণঠাসা

রাজনীতির মাঠে ব্ল্যাকমেইল, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ঘনঘটা

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতি ব্ল্যাকমেইলে ছেয়ে গেছে, যেখানে বিএনপির নিশ্চিত ক্ষমতাকে অনিশ্চিত করা হচ্ছে এবং দলটি জেনে-বুঝেও শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না। ছাড় দিতে দিতে ক্লান্ত বিএনপি কঠিন বাস্তবতার তোড়ে মোচড় দিতে চাইলেও, সরকার এবং একসময়ের মিত্র দলগুলোর বিপরীতমুখী ভূমিকার কারণে জুলাই চেতনা কার্যত ঝুলে গেছে। এতে নির্বাচন ও গণভোট উভয়ই ফ্যাসাদে পেঁচিয়ে ধোঁয়াশা-কুয়াশার ঘনঘটা তৈরি করেছে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এখন তুঙ্গে।

একদিকে সরকার আল্লাহ ছাড়া কেউ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না বলে প্রত্যয় জানাচ্ছে, অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ‘নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হচ্ছে, হঠাৎ আক্রমণ আসতে পারে’ বলে মহাগণ্ডগোলের শঙ্কা প্রকাশ করছেন। আইন উপদেষ্টার নির্বাচনের গ্যারান্টি দেওয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ও শঙ্কা আরও জোরালো করছে। মুখের ভাষার সঙ্গে কাজকর্মেও জুলাইবিরোধী তৎপরতা স্পষ্ট, যা এক প্রকার ‘জুলাই ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য বিভক্তকরণ ও ধোঁকায় ফেলা। জামায়াত বিএনপির প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ভজঘট পাকাচ্ছে। জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলেও, ৮৪টি পয়েন্ট ও ৭টি অঙ্গীকারের মতো বিস্তারিত বিষয়ের ওপর গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, বিশেষত যেখানে সনদের অনেক পয়েন্টের ওপরই দলগুলোর আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় প্রথমে এটি সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যে বিধান ছিল, সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়া হলেও, ‘আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না’ এমন অঙ্গীকার রাখা হয়েছে।

মনোজাগতিকভাবে সবাই জুলাইয়ের আইনি, সাংবিধানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি চাইলেও, চাওয়ার ফের ও মতবিরোধের কারণে এটি ঐক্যের বদলে বিভেদের দিকে ছুটছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না এমন বিধান রাখা হয়েছে; এছাড়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সব দল একমত। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব নিয়েও অধিকাংশ দল একমত হলেও পাঁচটি দলের অমত রয়েছে। এর মাঝেই নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে, যা অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে গণভোট নিয়ে, যেখানে ঐকমত্য কমিশন ঠিক করেছে, আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ, তারপর গণভোট এবং ২৭০ দিনের মধ্যে কার্যকর না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে।

এমন সুপারিশ পৃথিবীর কোনো সংবিধান অনুমোদন করে না বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো সনদে ঢুকিয়ে দেওয়ায় দলটি ঠকবাজি দেখছে। সবমিলিয়ে, টানা না হলেও মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে ২৭০ দিন আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক চরম অনৈক্য বিরাজ করছে, যা নির্বাচনের মাস তিনেক আগে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ, টেক্টরের বিধ্বংসী ইনিংস

গণভোট নিয়ে গ্যাঞ্জামে বিএনপি কোণঠাসা

রাজনীতির মাঠে ব্ল্যাকমেইল, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ঘনঘটা

প্রকাশিত : ০১:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতি ব্ল্যাকমেইলে ছেয়ে গেছে, যেখানে বিএনপির নিশ্চিত ক্ষমতাকে অনিশ্চিত করা হচ্ছে এবং দলটি জেনে-বুঝেও শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না। ছাড় দিতে দিতে ক্লান্ত বিএনপি কঠিন বাস্তবতার তোড়ে মোচড় দিতে চাইলেও, সরকার এবং একসময়ের মিত্র দলগুলোর বিপরীতমুখী ভূমিকার কারণে জুলাই চেতনা কার্যত ঝুলে গেছে। এতে নির্বাচন ও গণভোট উভয়ই ফ্যাসাদে পেঁচিয়ে ধোঁয়াশা-কুয়াশার ঘনঘটা তৈরি করেছে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এখন তুঙ্গে।

একদিকে সরকার আল্লাহ ছাড়া কেউ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না বলে প্রত্যয় জানাচ্ছে, অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ‘নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হচ্ছে, হঠাৎ আক্রমণ আসতে পারে’ বলে মহাগণ্ডগোলের শঙ্কা প্রকাশ করছেন। আইন উপদেষ্টার নির্বাচনের গ্যারান্টি দেওয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ও শঙ্কা আরও জোরালো করছে। মুখের ভাষার সঙ্গে কাজকর্মেও জুলাইবিরোধী তৎপরতা স্পষ্ট, যা এক প্রকার ‘জুলাই ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য বিভক্তকরণ ও ধোঁকায় ফেলা। জামায়াত বিএনপির প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ভজঘট পাকাচ্ছে। জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলেও, ৮৪টি পয়েন্ট ও ৭টি অঙ্গীকারের মতো বিস্তারিত বিষয়ের ওপর গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, বিশেষত যেখানে সনদের অনেক পয়েন্টের ওপরই দলগুলোর আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় প্রথমে এটি সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যে বিধান ছিল, সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়া হলেও, ‘আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না’ এমন অঙ্গীকার রাখা হয়েছে।

মনোজাগতিকভাবে সবাই জুলাইয়ের আইনি, সাংবিধানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি চাইলেও, চাওয়ার ফের ও মতবিরোধের কারণে এটি ঐক্যের বদলে বিভেদের দিকে ছুটছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না এমন বিধান রাখা হয়েছে; এছাড়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সব দল একমত। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব নিয়েও অধিকাংশ দল একমত হলেও পাঁচটি দলের অমত রয়েছে। এর মাঝেই নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে, যা অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে গণভোট নিয়ে, যেখানে ঐকমত্য কমিশন ঠিক করেছে, আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ, তারপর গণভোট এবং ২৭০ দিনের মধ্যে কার্যকর না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে।

এমন সুপারিশ পৃথিবীর কোনো সংবিধান অনুমোদন করে না বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো সনদে ঢুকিয়ে দেওয়ায় দলটি ঠকবাজি দেখছে। সবমিলিয়ে, টানা না হলেও মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে ২৭০ দিন আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক চরম অনৈক্য বিরাজ করছে, যা নির্বাচনের মাস তিনেক আগে কোনোভাবেই কাম্য নয়।